
প্রতিনিধি 8 October 2026 , 11:19:41 প্রিন্ট সংস্করণ
২০১৬ সালে প্রথমবার ফিফা সভাপতির দায়িত্ব নেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এরপর ২০১৯ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তবে আগামী বছরের ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এবার তার সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার রামন ভেগা।
আসন্ন নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন টটেনহ্যাম হটস্পারের সাবেক এই ডিফেন্ডার। ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করে ভেগা জানিয়েছেন, বিশ্ব ফুটবলে ঐক্য, সংস্কার, স্থিতিশীলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনাই তার মূল লক্ষ্য।
সম্প্রতি বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার ব্যর্থ পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ইনফান্তিনো। এমনকি উয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের পক্ষ থেকেও তার পদত্যাগের দাবি ওঠে বলে জানা গেছে। তবে এসব সমালোচনা উপেক্ষা করে দায়িত্বে বহাল রয়েছেন ইনফান্তিনো।
এই পরিস্থিতিতে ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন ৫৫ বছর বয়সী ভেগা। নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘আমি দাঁড়াচ্ছি বিশ্ব ফুটবল পরিবারকে পুনরায় একত্রিত করতে, প্রকৃত ও স্থায়ী সংস্কার আনতে, ফিফাকে আধুনিক রূপ দিতে, স্থিতিশীলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে এবং সেই আস্থা পুনর্গঠন করতে, যা আমাদের খেলায় জরুরি।’
২০০৪ সালে ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর আর্থিক খাতে যুক্ত হন ভেগা। সুইজারল্যান্ডের হয়ে ২৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই সাবেক ডিফেন্ডার ক্লাব ক্যারিয়ারে টটেনহ্যাম হটস্পার ছাড়াও সেল্টিক ও ওয়াটফোর্ডের হয়ে খেলেছেন।
ফিফা সভাপতির পদে প্রার্থী হওয়ার অভিজ্ঞতা অবশ্য ভেগার নতুন নয়। ২০১৫ সালে তৎকালীন ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারের স্থগিতাদেশের পর শীর্ষ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভেবেছিলেন তিনি। পরে ২০১৯ সালে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। কিন্তু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচটি ফেডারেশনের সমর্থন না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভোটে অংশ নিতে পারেননি।
এবার প্রার্থিতা ঘোষণার বিবৃতিতে ভেগা বলেন, ‘আমি দাঁড়াচ্ছি কারণ আমার জীবন আমাকে খেলাটির সেবা করার জন্য প্রস্তুত করেছে। ফুটবল কোনো প্রেসিডেন্ট, কনফেডারেশন বা প্রশাসকের নয়। ফুটবল কোনো পদ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বড়। এটি জনগণের খেলা এবং সবার—খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি, সমর্থক, স্বেচ্ছাসেবক, ক্লাব, লিগ, অ্যাসোসিয়েশন ও কমিউনিটির।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি প্রতিটি শিশুর, যে প্রথমবার খেলাটি আবিষ্কার করছে; প্রতিটি পেশাদারের, যে একটি জাতির আশা বহন করছে; এবং কোটি কোটি সমর্থকের, যাদের আবেগ ফুটবলকে বিশ্বের খেলা বানিয়েছে। ফুটবল সবসময় প্রথমে আসতে হবে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে বিভাজন আমাদের ফুটবল পরিবারকে ভেঙে দিয়েছে।’
ফিফার বর্তমান প্রশাসনের সমালোচনা করে ভেগা দাবি করেন, দুর্বল প্রশাসন সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং বিশ্ব ফুটবল পরিবারে আস্থা কমিয়েছে। তার ভাষায়, ‘ফুটবল প্রশাসনের অহংকেন্দ্রিক লড়াই কখনোই খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি ও সমর্থকদের ক্ষতি করতে দেওয়া যাবে না। তারা এসব দ্বন্দ্বের জন্য দায়ী নয়। তারা আরও ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য।’
নিজের নির্বাচনী অবস্থান তুলে ধরে ভেগা আরও বলেন, ‘ফুটবল এখন জরুরি বিভাগে, লাইফ সাপোর্টে আছে। আমরা আর অপেক্ষা করতে পারি না। ফিফার নতুন দিকনির্দেশনা ও মৌলিক সংস্কার দরকার। আমাদের ফুটবল পরিবারকে পুনরায় একত্রিত করতে হবে, আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে, স্থিতিশীলতা আনতে হবে এবং ফিফার শাসনব্যবস্থাকে আধুনিক করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন দৃঢ় পরিবর্তন—সাজসজ্জার মতো সামান্য সংশোধন নয়।’
আগামী বছরের ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০২৬। ফলে এবার ইনফান্তিনোর বিপক্ষে ভেগার প্রার্থিতা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।