
প্রতিনিধি 15 August 2026 , 3:00:29 প্রিন্ট সংস্করণ
আগের দিনের চমৎকার ব্যাটিং অব্যাহত রাখলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দলকে এনে দিলেন বড়সড় লিড। পরে বল হাতে প্রথম ইনিংসের মতোই দুর্দান্ত শুরু করলেন হাসান মাহমুদ। যার সৌজন্যে এখন জয়ের দারুণ সম্ভাবনা জাগাল বাংলাদেশ।
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিন শেষে ৬৭ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ। শনিবারের খেলা শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ১৬১ রান। সফরকারীদের লক্ষ্য দিতে আরও ৬৭ রান করতে হবে অস্ট্রেলিয়ার।
এর আগে স্বাগতিকদের ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৪২৬ রানে। যার ফলে তারা পায় ২২৮ রানের লিড। সেটি টপকে বাংলাদেশের টার্গেট দেওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জেই এখন ব্যাট করছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি ও নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রানের পর তৃতীয় দিন সকালে মেহেদী হাসান মিরাজ খেলেন ৬৫ রানের ইনিংস। যার সৌজন্যে ১৩৮ ওভার ব্যাট করতে পারে বাংলাদেশ।
গত সাড়ে ৭ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে সফরকারী কোনো দলের সর্বোচ্চ ওভার খেলার রেকর্ড। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে সিডনি টেস্টে ১৬৭.২ ওভার খেলেছিল ভারত। এরপর ৭২ ইনিংসে আর কোনো দল ১৩৪.৩ ওভারের বেশি খেলতে পারেনি।

তবে তৃতীয় দিন সকালে শুরুটা খুব ভালো ছিল না বাংলাদেশের। দিনের চতুর্থ ওভারে হাসান মাহমুদকে ফিরিয়ে ম্যারাথন জুটি ভাঙেন জশ হেজেলউড। এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফেরার আগে ৯২ বলে ১৪ রান করেন হাসান।
তার বিদায়ে ভাঙে ১৭০ বলে ৪৬ রানের জুটি। এরপর ক্রিজে গিয়ে ইতিবাচক ভঙ্গিতে ব্যাটিং শুরু করেন তাইজুল ইসলাম। হেজেলউডের বলে চমৎকার ফ্লিক শটে ছক্কা মেরে দেন বাঁহাতি ব্যাটার। তবে বেশি সময় টিকতে পারেননি তিনি।
হেজেলউডের বলেই ড্রাইভ করতে গিয়ে ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে গালিতে ধরা পড়েন ২৩ বলে ১৭ রান করা তাইজুল।
৮ ওভারের মধ্যে ২ উইকেট হারানোর পর দায়িত্ব নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নবম উইকেট জুটিতে তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক। বেশিরভাগ ওভারে চতুর্থ-পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক নিজের কাছেই রাখেন তিনি।
মিরাজকে ফেরানোর জন্য কখনও বাউন্সার, আবার কখনও লেগ স্টাম্প লাইনে টানা বোলিং করার ফাঁদ সাজায় অস্ট্রেলিয়া। তবে সেসব বেশ ভালোভাবে সামলে নেন স্পিনিং এই অলরাউন্ডার। আলগা বল পেলে রানের সুযোগও হাতছাড়া করেননি তিনি।
ব্যাটসম্যানশিপের দারুণ ছাপ রেখে ১১৭ বলে ক্যারিয়ারের দশম ফিফটি পূর্ণ করেন মিরাজ। ওই সেশনে আর কোনো উইকেটই পড়তে দেননি মিরাজ ও তাসকিন। সেশনে একদম শেষ বলে দুর্দান্ত হুক শটে ছক্কা মারেন মিরাজ।
লাঞ্চ বিরতির পর অবশ্য আর বেশিক্ষণ টেকেনি বাংলাদেশের ইনিংস। দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ওভারে হেজেলউডের চতুর্থ বলে বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন মিরাজ। প্রায় ৪ ঘণ্টা ক্রিজে থেকে ১৫৪ বলে ৬৫ রান করেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।
মিরাজকে ফিরিয়ে ইনিংসে ৫ উইকেটের পাশাপাশি টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩০০ উইকেট পূর্ণ করেন জশ হেজেলউড। টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেট নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার তিনি। পরে ইবাদত হোসেনকে আউট করে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান ৩৫ বছর বয়সী এই পেসার।
সব মিলিয়ে ৮৯ রানে ৬ উইকেট নেন হেজেলউড।
তামিমের সেঞ্চুরি, শান্ত-মিরাজের ফিফটির সৌজন্যে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ২২৮ রানের। নিজেদের ইতিহাসে মাত্র তিনবার দুইশর বেশি লিড হজম করে ম্যাচ জিততে পেরেছে অস্ট্রেলিয়া। যার সবশেষটি ২০১০ সালে, পাকিস্তানের বিপক্ষে।
তাই ঘুরে দাঁড়াতে অস্ট্রেলিয়ার সামনে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেই অভিযানে দ্বিতীয় ওভারেই বড় ধাক্কা দেন হাসান। চমৎকার ডেলিভারিতে জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে বোল্ড করেন প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া এই পেসার।
তিন ওভারের প্রথম স্পেলের পর আবার ১১তম ওভারে আক্রমণে আনা হয় হাসানকে। দ্বিতীয় বলেই তিনি ফিরিয়ে দেন আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেডকে। ভালো শুরুর পরও ৩৫ বলে ১৭ রানের বেশি করতে পারেননি হেড।
এরপর গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন স্টিভেন স্মিথ ও মার্নাস লাবুশেন। দুজন মিলে কাটিয়ে দেন দ্বিতীয় সেশনের বাকি সময়। শেষ সেশনে আর জুটি ভাঙতে বেশি সময় নেয়নি বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলামের ফুল লেংথ ডেলিভারিতে বোল্ড হন লাবুশেন।
অফ ফর্মে ভুগতে থাকা ব্যাটার আউট হন ৫৯ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলে।
অন্য প্রান্তে স্মিথ রাখেন নির্ভরতার ছাপ। মনে হচ্ছিল, প্রথম ইনিংসের মতো এবারও স্বাগতিকদের এগিয়ে নেবেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। তবে মিরাজের বলে আলগা শটে বাজে তার বিদায়ঘণ্টা। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে চমৎকার ফিরতি ক্যাচ নিয়ে ৪৪ রান করা স্মিথকে ফেরান বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক।
পরে আর বিপদ ঘটতে দেননি ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স কেয়ারি। দিনের বাকি ৯৪ বলে অবিচ্ছিন্ন থেকে ৩৯ রানের জুটি গড়েন দুই ব্যাটার। দিন শেষে ৮৬ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত গ্রিন। তার সঙ্গে আছেন ৫০ বলে ১৯ রান করা কেয়ারি।