
প্রতিনিধি 3 October 2026 , 12:17:32 প্রিন্ট সংস্করণ
শুরুটা ছিল দারুণ। জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স ঘরের মাঠে ছুটছিল জয়ের দিকে। আক্রমণের পর আক্রমণ। একের পর এক সুযোগ। শেষ পর্যন্ত গোলও পেল তারা। কিন্তু ইতালি হাল ছাড়েনি। ফিরেছে। লড়াই করেছে। আর শেষ পর্যন্ত জিদানের দলকে থামিয়ে দিয়েছে।
ফ্রান্সের জাতীয় স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতে ইউয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচটি শেষ হয়েছে ১-১ গোলে। মাইকেল ওলিসের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ফ্রান্স। পরে আলেসান্দ্রো বাস্তোনির গোলে সমতায় ফেরে ইতালি।
জিদানের কোচিংয়ে ঘরের মাঠে এটাই ছিল ফ্রান্সের প্রথম ম্যাচ। শুরুটা অবশ্য মনমতো হয়নি। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের চেনাতে শুরু করে স্বাগতিকেরা।
নবম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত ইতালি। বাঁ দিক থেকে আসা পাস পেয়ে দূরের পোস্টে ফাঁকায় ছিলেন মোইজে কিন। কিন্তু তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মিয়াঁ।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিতে থাকে ফ্রান্স। ৩৭তম মিনিটে প্রথমবার লক্ষ্যে শট নেয় তারা। উসমান দেম্বেলের শট অবশ্য সহজেই ঠেকিয়ে দেন জানলুইজি দোন্নারুম্মা।
প্রথমার্ধে দুই দলই ৮টি করে শট নেয়। লক্ষ্যে ছিল একটি করে।
বিরতির পর যেন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ফ্রান্স। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দোন্নারুম্মাকে পরীক্ষা নেন দেজিরে দুয়ে ও ওসমান দেম্বেলে। দুবারই জিতেছেন ইতালির গোলরক্ষক। দুই মিনিট পর ওলিসের শটও ঠেকিয়ে দেন তিনি।
কিন্তু ৫৫তম মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। ডি-বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় ফ্রান্স। রায়ান চেরকির পায়ের টোকায় বল একটু সামনে বাড়িয়ে দেন। সেখান থেকে বুলেট গতির শটে বল জালে পাঠান ওলিসে। এবার দোন্নারুম্মার কিছুই করার ছিল না।
গোলের পর ফ্রান্সের জয়টা যেন সময়ের অপেক্ষা মনে হচ্ছিল। কিন্তু ইতালি অন্য গল্প লিখল। ৬৮তম মিনিটে নিজেদের ভুলেই বিপদ ডেকে আনে ফ্রান্স। বক্সের বাইরে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান লুকা দা কুইয়া। আলগা বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন বাস্তোনি। সামনে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি।
এরপর আবার জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্রান্স। সুযোগও এসেছে। কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন দোন্নারুম্মা।
আদ্রিয়াঁ রাবিও ও এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন তিনি। ইতালির এক পয়েন্ট নিশ্চিত করার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে ওঠেন এই গোলরক্ষকই।
শেষদিকে ফ্রান্সের সমস্যা আরও বাড়ে। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে মোইজে কিনকে টেনে ধরে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন দাইয়ু উপামেকানো। ১০ জনের দল হয়ে যায় ফ্রান্স।
তবু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছে জিদানের দল। কিন্তু আর গোল পায়নি। ফ্রান্সের জন্য এটি ছিল এবারের নেশন্স লিগে প্রথম পয়েন্ট হারানো। প্রথম দুই ম্যাচেই ১-০ গোলে জিতেছিল তারা।
তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ লিগের এক নম্বর গ্রুপের শীর্ষে অবশ্য ফ্রান্সই। ৬ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে বেলজিয়াম। ৪ পয়েন্ট নিয়ে ইতালি তিনে। তুরস্ক এখনো পয়েন্টশূন্য।
জিদানের নতুন অধ্যায়ে ঘরের মাঠের প্রথম ম্যাচে তাই জয় দিয়ে গল্প শুরু হলো না। বরং সেই গল্পে প্রথম বাধার নাম ইতালি। আর সেই বাধা পেরোতে না পারার পেছনে বড় কারণ-দোন্নারুম্মার অসাধারণ রাত।
ম্যাচটা শুধু ইতালি-ফ্রান্সের নয়, ২০ বছর আগে জিদানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই দুঃস্মৃতিরও। হেডবাট কাণ্ড ঘটিয়ে সেই দিন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন জিদান।