
প্রতিনিধি 4 October 2026 , 12:54:26 প্রিন্ট সংস্করণ
নিউ চণ্ডীগড়ে অনুষ্ঠিত ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ও বিশ্বসেরা আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটার শেরফান রাদারফোর্ডের একটি ক্যাচ আউট ঘিরে তৃতীয় আম্পায়ার হিসেবে তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে ধারাভাষ্যকার থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
ম্যাচে ৩৫২ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের ৩০তম ওভারের শেষ বলটির মুখোমুখি হয়েছিলেন শেরফান রাদারফোর্ড। ভারতের বোলার নামান ধীরের করা বলটি কাট করতে গেলে তা উইকেটকিপার লোকেশ রাহুলের গ্লাভসবন্দী হয়। ভারতীয় খেলোয়াড়দের জোরালো আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাঠের আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত দিলে তাৎক্ষণিকভাবে রিভিউয়ের আবেদন করেন রাদারফোর্ড।
টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি যখন ব্যাটের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল, তখন স্নিকোমিটারে একটি স্পাইক বা শব্দ ধরা পড়ে। তবে মূল বিতর্ক শুরু হয় ক্যামেরার ক্লোজআপ দৃশ্য নিয়ে। ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, বল ও ব্যাটের মধ্যে স্পষ্ট ফাঁক থাকলেও একই সময়ে ব্যাট ও প্যাডের সংযোগ ঘটেছিল। ফলে স্নিকোতে ধরা পড়া শব্দ ব্যাট-বলের ঘর্ষণের কারণে তৈরি হয়েছিল, নাকি ব্যাট ও প্যাডের লাগার ফলে-তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সমস্ত বিষয় পর্যালোচনা করে মাঠের আম্পায়ারের আউট দেওয়ার সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন। এই সিদ্ধান্তে চরম ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট হয়ে আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলে ক্ষুব্ধ মনে মাঠ ছাড়েন রাদারফোর্ড।
বিষয়টি নিয়ে ম্যাচ চলাকালীন ধারাভাষ্যকার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা ইয়ান বিশপও কথা বলেন। তিনি জানান, তৃতীয় আম্পায়ারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী-ব্যাট ও বলের মধ্যে কোনো ফাঁক দেখতে পাননি আম্পায়ার, যা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। এছাড়া ভারতীয় বিশিষ্ট সাংবাদিক বিক্রান্ত গুপ্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, রাদারফোর্ড আউট ছিলেন না এবং টিভি আম্পায়ার কীভাবে ফাঁক দেখতে পেলেন না, তা বোধগম্য নয়।
এদিকে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও ম্যাচে দারুণ জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪৮.২ ওভারে মাত্র ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৫২ রানের লক্ষ্য টপকে জয় নিশ্চিত করে ক্যারিবীয়রা। এই জয়ে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়ায় সফরকারীরা, আর প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিজেদের করে নেয় স্বাগতিক ভারত (২-১)।