
প্রতিনিধি 1 August 2026 , 11:28:22 প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বে বাইরের বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা নিয়ে কয়েক দিনের তুমুল বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত পিছু হটল ফিফা। সদস্য দেশগুলোর ব্যাপক বিরোধিতা ও ফুটবল মহলের চাপের মুখে বিতর্কিত প্রস্তাবটি আর এগিয়ে নেয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর প্রবল আপত্তির পর পরিকল্পনাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ইনফান্তিনো স্বীকার করেছেন, প্রস্তাবটি ফিফার ভেতরেই বিভাজনের সৃষ্টি করেছে।
পরিকল্পনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, এই প্রকল্পটি ফিফার সদস্যদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করেছে। ফলে এটি আর সামনে এগিয়ে নেয়া হবে না।
ফিফার প্রস্তাব ছিল, পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। সেই প্রতিষ্ঠানের সংখ্যালঘু মালিকানা বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল সংস্থাটির।
এ পরিকল্পনার সমর্থন আদায়ে ফিফার ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে সর্বোচ্চ ৪০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থায়নের প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটিই উল্টো ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

সবার আগে আপত্তি জানায় ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা। তাদের ৫৫ সদস্য অ্যাসোসিয়েশন একযোগে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে এবং সতর্ক করে দেয়, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে ফিফার প্রতিযোগিতা বর্জনের বিষয়টিও বিবেচনায় আনা হবে।
পরে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)ও একই অবস্থান নেয়। ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই ফিফার পরিকল্পনাটি কার্যত আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে একঘরে হয়ে পড়ে।
আপত্তি শুধু সদস্য দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ফিফার অভ্যন্তর থেকেও প্রকল্পটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংস্থার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুর অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে ফিফার প্রশাসনকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি।
অন্যদিকে সভাপতি ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেন। তিনি জানান, এটি ছিল ‘ফুটবলের জন্য একটি খারাপ চুক্তি’, যা ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
আগামী মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত হবে ফিফার ৭৭তম কংগ্রেস, যেখানে নতুন সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগে ইনফান্তিনোকে প্রায় নিশ্চিতভাবেই পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক এই বিতর্ক তার অবস্থানকে কিছুটা হলেও চাপে ফেলেছে। তবু ইনফান্তিনো আশাবাদী, ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থে সব সদস্যকে আবারও একসঙ্গে নিয়ে কাজ করা সম্ভব হবে।