
প্রতিনিধি 27 July 2026 , 12:17:51 প্রিন্ট সংস্করণ

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ইতিহাস গড়লেন ভারতের তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৪৯ বলে ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়ার পাশাপাশি গড়েছেন অনন্য এক রেকর্ড। তার অনবদ্য ইনিংস ও বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে ভারত ৩৫ রানের জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ সম্পন্ন করে।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯২ রান সংগ্রহ করে। ইনিংসের মূল ভিত্তি গড়ে দেন ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী। ৪৯ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৮১ রান করেন তিনি। ইনিংসের মাঝপথে ৩১ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন এই ১৫ বছর বয়সী ব্যাটার, যেখানে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছক্কা।
এছাড়া ইশান কিশান ২৬ বলে ২৯, অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ১৮ বলে ২৭, রিঙ্কু সিং ১৪ বলে ২৫ এবং তিলক ভার্মা ৯ বলে ১১ রান করেন। অভিষেক শর্মা আউট হন মাত্র ২ রান করে। জিম্বাবুয়ের হয়ে ব্র্যাড ইভান্স ৪ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন। এছাড়া সিকান্দার রাজা, ব্লেসিং মুজারাবানি ও ওয়েসলি মাধেভেরে একটি করে উইকেট শিকার করেন।

১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ও ওপেনার ব্রায়ান বেনেট দুজনই প্রথম বলেই আউট হন। এরপরও রায়ান বার্ল ৪৩ বলে ৫৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও দলকে জয়ের পথে নিতে পারেননি। ওয়েসলি মাধেভেরে ২৫ বলে ২৮, বেন কারান ১৯ বলে ২০ এবং ডিওন মায়ার্স ১৫ বলে ১৯ রান করেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৭ রানেই থামে স্বাগতিকরা।
ভারতের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন পেসার মায়াঙ্ক যাদব। ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। যশ ঠাকুর শিকার করেন ২টি উইকেট। এছাড়া অশোক শর্মা ও রবি বিষ্ণোই একটি করে উইকেট নেন।
এই ইনিংসের মাধ্যমে সূর্যবংশী আরেকটি বিরল কীর্তিও গড়েছেন। ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুটি অর্ধশতক করা পূর্ণ সদস্যভুক্ত কোনো দেশের প্রথম ব্যাটার তিনি। এর আগে ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অর্ধশতক করেছিলেন কেবল নেপালের কুশল মাল্লা। চলমান তিন ম্যাচের সিরিজেই সূর্যবংশী নিজের দুটি ফিফটি তুলে নেন।
সিরিজ শেষে ম্যাচসেরা ও সিরিজসেরার পুরস্কার জিতে উচ্ছ্বসিত সূর্যবংশী বলেন, ‘এটি সত্যিই স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। প্রথমবার ম্যাচসেরা ও সিরিজসেরার পুরস্কার পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত।’
হারারের মাঠে খেলার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন এই তরুণ ব্যাটার। তিনি বলেন, ‘এখানে আসার পর দুই-তিন দিন আমরা খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমি এর আগে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও এই মাঠে খেলেছি, তাই এখানে খেলতে আমার খুব ভালো লাগে। অধিনায়ক, কোচসহ সবাই আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। তাই আমি খুবই খুশি।’
এই সিরিজ জয়ের মাধ্যমে আগের দুটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে ইংল্যান্ডের কাছে ০-৪ এবং আয়ারল্যান্ডের কাছে ০-২ ব্যবধানে হারের হতাশা কাটিয়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল ভারত।