
প্রতিনিধি 4 October 2026 , 4:37:10 প্রিন্ট সংস্করণ
এশিয়ান গেমসে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাইফ হাসান, তাওহীদ হৃদয় ও রিশাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। টিম ম্যানেজমেন্টকে না জানিয়ে নাগোয়া শহরের বাইরে যাওয়ায় তিন ক্রিকেটারকে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা করা হতে পারে। সব মিলিয়ে জরিমানার পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৯ লাখ টাকা।
তবে এমন শাস্তির সিদ্ধান্তের মধ্যেই সতীর্থদের পাশে দাঁড়িয়েছেন লিটন দাস। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্রিকেটারদের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরেন তিনি।
লিটনের যুক্তি, দীর্ঘ সময় হোটেলে থাকার কারণে ক্রিকেটারদের অনেক প্রয়োজন অপূর্ণ থাকতে পারে। বিশেষ করে খাবার ও প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রয়োজন হলে ক্রিকেটাররা বাইরে গিয়ে খাবার সংগ্রহ করতেই পারেন বলে মনে করেন তিনি।
লিটন বলেন, ‘ক্রিকেট খেলতে গেলে অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। প্রস্তুতির জন্যও সুযোগ-সুবিধা দরকার। এখানে সেই সুযোগ কতটা আছে, সেটাও দেখতে হবে। একজন ক্রিকেটার কি সারাক্ষণ রুমের মধ্যে বন্দি হয়ে থাকবে?’
শুধু খাবার নয়, অনুশীলন ও প্রস্তুতির জন্যও ক্রিকেটারদের কিছুটা স্বাধীনতা প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশ দলের এই ব্যাটার। তার মতে, পর্যাপ্ত খাবার না পেলে বাইরে থেকে খাবার নেওয়ার প্রয়োজন হতেই পারে। কারণ মাঠে পারফর্ম করার জন্য খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় শক্তি ও এনার্জি নিশ্চিত করাও জরুরি।
লিটনের এমন মন্তব্যকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে ক্রিকেটসংশ্লিষ্টরা। কারণ শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এর আগে নিজেও শাস্তির মুখে পড়েছিলেন তিনি। গত জুনে জিম্বাবুয়ে সফর শেষে দেশে ফিরে বিসিবিকে না জানিয়ে চীন সফরে যাওয়ায় জরিমানা গুনতে হয়েছিল তাকে। শেখ মেহেদী হাসানও একইভাবে শাস্তি পেয়েছিলেন।
এবার নিজের অভিজ্ঞতার পরও সতীর্থদের সমালোচনা না করে বরং তাদের অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করেছেন লিটন। তার বক্তব্যে মূলত উঠে এসেছে ক্রিকেটারদের প্রয়োজনীয় খাবার, প্রস্তুতি ও স্বাভাবিক চলাফেরার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি।
অন্যদিকে, বিসিবি শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ছাড় দিতে চাইছে না। বোর্ডের একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরার পর তিন ক্রিকেটারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জরিমানার চিঠি দেওয়া হতে পারে। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ দলের নিয়মকানুন মানার ক্ষেত্রে যে কঠোর অবস্থানে রয়েছে, এই সিদ্ধান্তেও তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।