
প্রতিনিধি 15 September 2026 , 3:49:28 প্রিন্ট সংস্করণ
২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হামজা চৌধুরীর। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড পজিশনে খেলছেন জাতীয় দলে। অনেক সময় তখনকার কোচ হাভিয়ের কাবরেরা তাঁকে উপরে উঠে খেলার স্বাধীনতাও দিয়েছেন।
যে কারণে হামজা দেশের হয়ে ১০ ম্যাচ খেলে করেছেন ৪ গোল। এই সময়ে দলের কোনো ফরোয়ার্ড এত গোল করতে পারেননি। সবশেষ সান মারিনো সফরে বাংলাদেশের ২-১ গোলে জেতা ম্যাচে দুটি গোলই ডিফেন্ডার তপু বর্মণের।
ওই ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশের ডাগ আউটে দাঁড়ান থমাস ডুলি। নিজের প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই বুঝে গিয়েছিলেন দলে সত্যিকারের ‘নম্বর নাইন’ এর অভাব। যে কারণে ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকে স্বাধীনতা দেন রক্ষণ সামলে উপরে উঠে খেলার। কোচের আস্থার প্রতিদানও তিনি দিয়েছেন, তপু বর্মণের জয়সূচক গোলে সহায়তা করে।
কিন্তু আসিয়ান কাপ খেলতে যাওয়ার আগে আস্থার সেই বিশ্বনাথকেও হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে অন্তত চার সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে বসুন্ধরা কিংসের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারকে।
তাতে আবারও সামনে এসেছে বাংলাদেশের পুরোনো সমস্যা- প্রথাগত ‘নম্বর নাইন’ কোথায়? জাতীয় দলের কোচ ডুলির উত্তরটা অবশ্য শুধু বর্তমান স্কোয়াডে খুঁজে পাচ্ছেন না। সমস্যাটার শিকড় তিনি দেখছেন ঘরোয়া ফুটবলে।
ডুলির যুক্তি, দেশের ক্লাবগুলোতে নিয়মিত বিদেশি ফরোয়ার্ডরা খেলায় স্থানীয় স্ট্রাইকারদের উঠে আসার সুযোগ কম, ‘আমাদের কোনো প্রথাগত নম্বর নাইন নেই। প্রশ্ন হলো, আমাদের লিগে কেন কোনো নম্বর নাইন তৈরি হচ্ছে না? প্রতিটি ক্লাবেই একজন বিদেশি নম্বর নাইন খেলছে। ফলে আমরা এই পজিশনের খেলোয়াড় তৈরি করছি না।’
রাকিব হোসেন, শেখ মোরসালিন ও শাহরিয়ার ইমনদের সেন্টার-ফরোয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা দেখছেন ডুলি, ‘আমাদের কাউকে খুঁজে বের করতে হবে এবং এমন জায়গায় খেলাতে হবে, যেখানে সে সেন্টার-ফরোয়ার্ড হিসেবে দলকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারে। কে হবে, সেটা আমরা এখনও জানি না। আমার কিছু ধারণা আছে—রাকিব, মোরসালিন কিংবা ইমন? আমাদের দেখতে হবে কে এগিয়ে আসে।’
বিশ্বনাথ ছিটকে যাওয়ার মাঝেই তপু বর্মন, জামাল ভূঁইয়া ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিমও চোটে আছেন। তবে আসিয়ান কাপের আগেই তাঁদের সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করছেন ডুলি।
আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২৫ সেপ্টেম্বর, মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। প্রিমিয়ার ডিভিশনের ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের অপর দুই প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ১৯ সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল।