
প্রতিনিধি 17 August 2026 , 11:51:43 প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ১ হাজার ২৪৪ কোটি টাকার এক বিশাল ‘প্রাতিষ্ঠানিক সিড ফান্ড’ বা মূল তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
পাশাপাশি, প্রতিটি ফেডারেশনকে বছরে কমপক্ষে চারটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং তিনটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের কড়া শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সম্মেলন কক্ষে আজ ১৪টি নতুন অ্যাডহক ক্রীড়া ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া এই সিড ফান্ড নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি অনুযায়ী ফেডারেশনগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে।
এই কাঠামোর আওতায়, তহবিলের বার্ষিক লাভের ৭৫ শতাংশ সরাসরি ফেডারেশনগুলো পাবে। এই অর্থ দিয়ে তারা দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা, ক্রীড়াবিদদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং ফুটবল, হকি, আর্চারি ও শুটিংয়ের মতো খেলাগুলোর সার্বিক উন্নয়ন করবে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে লাভের বাকি ২৫ শতাংশ মূল তহবিলে পুনরায় বিনিয়োগ করা হবে।

প্রতিটি ফেডারেশনকে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া ক্যালেন্ডার তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রতিটি ফেডারেশনকে বছরে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তত চারটি জাতীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে। এছাড়া, দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক আসর বসিয়ে বা বিদেশে জাতীয় দল পাঠিয়ে বছরে অন্তত তিনটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশ নিতে হবে।
আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতি ৪ মাস অন্তর খেলোয়াড়দের ভাতার বিষয়ে কঠোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। পারফর্ম করতে ব্যর্থ হলে তাদের বাদ দিয়ে নতুন ও উদীয়মান প্রতিভাবানদের সুযোগ দেওয়া হবে।
দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, গত ১৭ বছরের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে। সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ ও সামরিক কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইন সবার জন্য সমান। দুর্নীতির প্রমাণ পেলে প্রশাসনিক শাস্তির পাশাপাশি দেশের প্রচলিত আইনে সরাসরি আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।
নারী অ্যাথলেটদের জন্য নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন আমিনুল হক।
এদিনের মতবিনিময় সভায় অ্যাথলেটিকস, হকি, সাইক্লিং, সাঁতার, শুটিং, কাবাডি, ভলিবল, দাবা, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, টেবিল টেনিস, মহিলা ক্রীড়া, আর্চারি এবং অ্যামেচার বক্সিং এই ১৪টি ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাকি ১৩টি অ্যাডহক কমিটির সঙ্গে সোমবার আলাদাভাবে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।