
প্রতিনিধি 2 August 2026 , 4:35:57 প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি কার শোকেসে উঠল, তা নিয়ে পরিসংখ্যানের পাতায় হয়তো জটিল হিসেব নথিভুক্ত থাকে। কিন্তু একজন আর্জেন্টাইনের কাছে ফুটবলের অর্থ তো স্রেফ মাঠের খেলা নয়, তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু— জাতীয় মর্যাদা, ইতিহাস আর রাজনীতির গভীর আবেগ। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লাউদিও তাপিয়া যেন সেই চিরন্তন অনুভূতির সুরই নতুন করে বাঁধলেন।
বুয়েনস আইরেসের এজেইজায় ‘লিওনেল আন্দ্রেস মেসি’ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এএফএ স্পন্সর ডের অনুষ্ঠানে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বললেন, আর্জেন্টাইনদের কাছে আসল বিশ্বকাপ জেতা হয়ে গেছে ইংল্যান্ডকে হারানোর দিনই।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাপিয়া সরাসরি বলেন, ‘ইংল্যান্ডকে হারানোর দিনই আমাদের বিশ্বকাপ জেতা হয়ে গেছে। এই জাতীয় দল এমন কিছু করেছে যা দীর্ঘদিন দেখা যায়নি। ক্রীড়াক্ষেত্রের সাফল্য ছাড়িয়ে তারা আমাদের মালভিনাস যুদ্ধের সৈন্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছে।’
আর্জেন্টাইনদের হৃদয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফুটবল ম্যাচের গুরুত্ব মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূরে বিস্তৃত। ১৯৮২ সালের মালভিনাস (ফকল্যান্ডস) যুদ্ধের সেই পুরনো ক্ষত আজও বয়ে বেড়ায় পুরো দেশ।

ঐতিহাসিক সেই কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আবহের কথা মনে করিয়ে দিয়ে এএফএ সভাপতি আরও যোগ করেন, ‘এই বিশ্বকাপে আমাদের ছেলেরা আবার মালভিনাস ইস্যুকে বৈশ্বিক কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে তুলে আনতে সক্ষম হয়েছে। মাঠে যা ঘটেছে তা স্রেফ মহাকাব্য। আমি জানি, টানা তিনটি ম্যাচে পুরো ১২০ মিনিট করে তারা কীভাবে হৃদয় দিয়ে লড়াই করেছে। তবে একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে আমি নিশ্চিত, আমাদের কাছে বিশ্বকাপ জেতা হয়ে গিয়েছিল সেদিনই-যেদিন আমরা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিলাম।’
শুধু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিয়েই থামেননি তাপিয়া। বর্তমান জাতীয় দলটিকে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা দল হিসেবে দাবি করে তিনি বলেন, ‘টানা পাঁচটি টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে চারটিতেই চ্যাম্পিয়ন হওয়া… আমার বিশ্বাস, এটিই আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বকালের সেরা জাতীয় দল। আমাদের পতাকাকে বিশ্বের সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা অসীম গর্ববোধ করি।’
গত কয়েক বছরে কোপা আমেরিকা থেকে বিশ্বকাপ-সব আসরেই আর্জেন্টিনার আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে তাপিয়ার এই বক্তব্য ফুটবল বিশ্বকে আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিল-বুয়েনস আইরেসের অলিগলিতে ফুটবল খেলাটা কেবল ২২ জনের বল দখলের লড়াই নয়, তা জড়িয়ে আছে একটা পুরো জাতির স্বাভিমান আর ইতিহাসের ভালোবাসায়।