
প্রতিনিধি 26 October 2026 , 11:50:18 প্রিন্ট সংস্করণ
মঙ্গলবার রাতে সবশেষ ম্যাচে পিএসজির বিপক্ষে ২-৪ গোলে পরাজয়ই কি তবে বার্সেলোনাকে আজকের ম্যাচে পিছিয়ে দিল? ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার পর এবার লা লিগাতেও মৌসুমে প্রথম হারের স্বাদ পেল কাতালানরা। নিজেদের ঘরের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ থামিয়েছে তাদের ৯ ম্যাচের জয়যাত্রা।
রোববার রাতে ক্যাম্প ন্যু-তে রিয়ালের সঙ্গে ১-২ গোলে হেরেছে বার্সেলোনা। প্রথমার্ধের ৪১তম মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদকে লিড এনে দেন কিলিয়ান এমবাপে। ৬১ মিনিটে বার্সেলোনাকে সমতায় ফেরান রাফিনিয়া। এরপর ৮৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে দলকে জেতান এমবাপে।
এই জয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়ার পরও ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনেই রইল রিয়াল। সমান ১০ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের শীর্ষে বার্সেলোনা। তাদের চেয়ে দুই পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ।
২০২৬-২৭ মৌসুমে লা লিগায় এটিই বার্সেলোনা প্রথম হার, এমনকি প্রথম পয়েন্ট হারানো। এর আগে শুরুর টানা ৯ ম্যাচ জিতে ইতহাস গড়ে হান্সি ফ্লিকের দল।বার্সেলোনা লা লিগার প্রথম নয়টি ম্যাচেই জয় পাওয়া মাত্র দ্বিতীয় দল, তাদের আগে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ এই কীর্তি গড়েছিল। আজ তারাই বার্সেলোনার সেই জয়রথে লাগাম টানলো।
এদিন ১৯তম মিনিটে গার্সিয়ার দারুণ সেভ! আর্দা গুলেরের একটি শক্তিশালী ও নিচু শট লক্ষ্যেই ছিল, তবে গোলকিপার ঠেকিয়ে দেন। এরপর ডিফেন্ডাররা বলটি ক্লিয়ার করেন, এতে পরপর দুটি কর্নার আদায় করে নেয় রিয়াল।
২২তম মিনিটে পেদ্রির দারুণ প্রেসিংয়ের মুখে পড়ে লাফিয়ে ওঠা বল বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হয় মাদ্রিদ। বল গড়িয়ে রাফিনহার পায়ে গেলে কোনাতে তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এগিয়ে আসেন, পরে রাফিনহার শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
এরপর ৪১ মিনিটে এমবাপের গোলে লিড নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। দিওমান্দর ক্রসে ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন জেরার্ড মার্টিন, তবে বল যায় গোলপোস্টের দিকে দৌড়ে আসা এমবাপের পায়ে। ফরাসি তারকাকে যেন কিছুই করতে হয়নি, সোজা শটে বল কাঁপায় জাল।
দুই মিনিট পর ডান দিকের কাছের পোস্ট দিয়ে ইয়ামাল সহজ লক্ষ্যভেদ করতে না পারলে সমতায় ফেরার সুযোগ হারায় বার্সেলোনা। খনিক পর রদ্রির শট বামদিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন রিয়াল গোলকিপার লুনিন।
বিরতির পরপরই আরও এগিয়ে যেতে পারত রিয়াল। বাম প্রান্ত ধরে একাই উপরে উঠেন বেলিংহাম। তবে বার্সেলোনার রক্ষণ প্রাচীরের শেষ ধাপ কুবার্সির চ্যালেঞ্জ উতরে যেতে পারেননি ইংলিশ মিডিফিল্ডার।
ম্যাচে ফিরতে মরিয়া বার্সেলোনা সমতায় ফেরে ৬১ মিনিটে। পেদ্রির পাস ধরে বক্সের আড়াআড়ি এঙ্গেল থেকে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন রাফিনিয়া। গোলকিপার লুনিন ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়লে তাঁর হাতে লাগে বল, এরপর সামান্য দিক পরিবর্তন করলেও তা গোল বাঁচাতে পারেনি।
এ যাত্রায় বাঁচানো না গেলেও ৬৫ মিনিটে নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেন রিয়াল মাদ্রিদ গোলকিপার। পোস্টের ৬ গজ দূর থেকে নেওয়া মার্টিনের চমৎকার হেড ক্ষিপ্রতায় আটকে দেন ইউক্রেনের এই গোলকিপার।
৭৮ মিনিটে বক্সের একটু সামনে থেকে ইয়ামালের নেওয়া জোরালো শট বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে। একটু পর বদলি নামা ডি ইয়াংয়ের শট কর্নার করে দেন কুকুরেইয়া।
৮৭ মিনিটে দারুণ গোলে ফের রিয়ালকে লিড এনে দেন এমবাপে। কামাভিঙ্গার দুর্দান্ত কাটব্যাকে গোলমুখের সামনে থেকে সহজেই জাল খুঁজে নেন ফরাসি তারকা। বার্সেলোনার বিপক্ষে ক্যারিয়ারে ১১ ম্যাচে ১৪তম গোলটি করলেন সাবেক বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স ফরোয়ার্ড।