
প্রতিনিধি 23 July 2026 , 4:07:48 প্রিন্ট সংস্করণ

আর্জেন্টিনা জাতীয় দল, লিওনেল স্কালোনি, লিওনেল মেসি, দিয়েগো ম্যারাডোনা- এক সাক্ষাৎকারে যেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের সাম্প্রতিক ইতিহাসই ফিরে দেখলেন হুয়ান রোমান রিকেলমে। ছোটবেলায় ম্যারাডোনায় বুদ হয়ে থাকা আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি এখন বিস্ময়ে ডুবে যান মেসির খেলায়।
আর্জেন্টিনার ফুটবলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বোকা জুনিয়র্সের সভাপতি ও আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা প্রশংসা করেছে স্কালোনির, তুলে ধরেছেন মেসির মাহাত্ম্য, আবার স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন।
কোচদের গুরুত্ব স্বীকার করলেও রিকেলমের মতে, মেসির মতো একজন ফুটবলার দলে থাকলে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়।
“কোচ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক সময় আমরা এমন কিছু গল্প তৈরি করি, যা পুরোপুরি বাস্তব নয়। মেসির মতো খেলোয়াড় থাকলে কোচের কাজ সহজ হয়ে যায়। তাকে খুব বেশি কিছু বলে দিতে হয় না। যারা মেসিকে কোচিং করানোর সুযোগ পেয়েছেন, তারা সত্যিই সৌভাগ্যবান।”
তাই বলে স্কালোনির কৃতিত্ব কোনো দিক থেকে ছোট করতে রাজি নন রিকেলমে। বর্তমান আর্জেন্টিনা কোচকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা কোচ বলতেও দ্বিধা করেননি তিনি।
“স্কালোনি আমাদের ফুটবল ইতিহাসের সেরাদের একজন। তিনি, তার কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়রা যে আনন্দ আমাদের দিয়েছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

“আরও বেশি ভালো লাগে, কারণ তাদের অনেককেই ছোটবেলা থেকে চিনি। স্কালোনি, ওয়াল্টার সামুয়েল ও পাবলো আইমারের সঙ্গে আমার পরিচয় কৈশোর থেকেই। আর রবার্তো আয়ালার সঙ্গে তো খেলেছি ২০০৬ বিশ্বকাপে।”
এসময় মেসিকে নিয়ে বলতে গিয়ে রিকেলমে ফিরে যান ম্যারাডোনার প্রসঙ্গে। তার মতে, আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীরা দুই ভিন্ন যুগে দুই কিংবদন্তিকে দেখার সৌভাগ্য পেয়েছেন।
“আমরা মেসিকে দেখতে পাচ্ছি, আমরা সৌভাগ্যবান। একসময় আমরা ভাবতাম, ম্যারাডোনার মতো আর কেউ আসবে না। এরপর এলেও মেসি। এখন তো অনেকেই ভাবেন, সে কি ম্যারাডোনার চেয়েও এগিয়ে?”
বর্তমান আর্জেন্টিনা দলকে ইতিহাসের সেরা বলা যায় কি না- এ প্রশ্নে অবশ্য নির্দিষ্ট কোনো তুলনায় যেতে চাননি রিকেলমে। বরং সব শিরোপাজয়ী প্রজন্মের অবদানই স্মরণ করেছেন তিনি।
“বিলার্দো, মেনোত্তি, বাসিল, স্কালোনি- যারা দেশকে শিরোপা ও আনন্দ এনে দিয়েছেন, তাদের সবার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। একইভাবে প্রতিটি সময়ের শিরোপাজয়ী খেলোয়াড়দের প্রতিও। জেতা কখনোই সহজ নয়। ম্যারাডোনাকে পাওয়া যেমন সৌভাগ্যের ছিল, মেসিকেও পাওয়া তেমনি সৌভাগ্যের।”
১৯৭৮ বিশ্বকাপজয়ী দল ও মারিও কেম্পেসের কথাও স্মরণ করেছেন রিকেলমে। যদিও তখন তিনি সদ্য জন্মেছেন।
“আমি কেম্পেসকে খেলতে দেখিনি। কিন্তু তার সম্পর্কে যা শুনেছি, তাতে তিনি সেই বিশ্বকাপ জয়ের মূল নায়ক ছিলেন। তাদের প্রতিও আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।”
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার হারের প্রসঙ্গও ওঠে। স্পেনের ফুটবলের প্রশংসা করলেও রিকেলমের বিশ্বাস, ম্যাচটিতে শারীরিক ক্লান্তি বড় ভূমিকা রেখেছে।
“স্পেন খুব ভালো খেলেছে। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, আর্জেন্টিনা সেদিন ক্লান্ত ছিল। দল যদি আরও কিছুটা বিশ্রাম পেত, তাহলে ম্যাচের চিত্র ভিন্নও হতে পারত।”