
প্রতিনিধি 19 July 2026 , 5:42:03 প্রিন্ট সংস্করণ

দূরপাল্লার মিসাইল ও বিশেষ গোল উদ্যাপন- এনজো ফার্নান্দেজ একের ভেতরে এই দুই। তবে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি প্রতিপক্ষের জন্য বড় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফার্নান্দেজকে নিয়ে মিসাইলের ব্যাখ্যা নতুন করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই, ২০২২ বিশ্বকাপেই সেটা দেখেছে বিশ্ব। সেই স্মৃতি ভুলে গেলে ইংল্যান্ড সমর্থকদের জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, সেমিফাইনালে ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার গোলটি তাদের মনে এখনো শেল হয়ে বিঁধে আছে।তবে স্পেনের ভয় শুধু ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার শটে নয়।
ম্যাচে হুটহাট দূরপাল্লার শটে গোল করাটা যদি চেলসির এই মিডফিল্ডারের ইউরোপিয়ান ধাঁচ হয়, তবে লাতিন শিকড়টা তাঁর হৃদয়েই প্রোথিত। দুই দলের মিডফিল্ডারদের মধ্যে ফার্নান্দেজই দৌড়েছেন সবচেয়ে বেশি। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হওয়া ফার্নান্দেজ এখন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডের আসল জেনারেল। দায়িত্ব বেশি বলে ছোটাছুটিও বেশি। প্রতিপক্ষ বক্সের আশপাশে একটু ফাঁকা জায়গা পেলেই তিনি পায়ের জাদুতে গোল করার চেষ্টা করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও চারটি শটের একটি থেকে গোল পেয়েছেন তিনি।

ফার্নান্দেজ সব সময় গোল করেন না, কিন্তু তাঁর গোলগুলো ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ দিকে। শেষ ষোলোয় মিসরের বিপক্ষে ৯৩ মিনিটে বা মেক্সিকোর বিপক্ষে ৮৭ মিনিটে গোল করার মতো অবিশ্বাস্য দক্ষতা তাঁর আছে। আর্জেন্টিনা দলে গোল করার লোকের অভাব নেই, কিন্তু সবাই যখন ব্যর্থ হন, তখনই ফার্নান্দেজের সেরাটা বেরিয়ে আসে।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, ম্যাক আলিস্টার ও রদ্রিগো দি পলের চেয়ে প্রতি ৯০ মিনিটে শট ও সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ফার্নান্দেজ। ইংল্যান্ড ম্যাচে দুই দলের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি ১০৪ বার বল স্পর্শ করেছেন এবং সফল পাসের হার ছিল ৯৮ শতাংশ। বিশ্বকাপের শুরুতে সেভাবে প্রভাব ফেলতে না পারলেও, ম্যাচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি মিডফিল্ডে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন।
ইংল্যান্ড ম্যাচের পর ফার্নান্দেজ বলেছিলেন, আগের ম্যাচগুলোয় তিনি স্বস্তিতে ছিলেন না, তবে ফাইনালে তিনি নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত। আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা চাইছেন, আজ রাতে এনজো গোল করে টোপো গিগিওর মতো উদ্যাপন করবেন। ১৯৫৮ সালের ইতালীয় পুতুলনাচের চরিত্রের আদলে করা এই উদ্যাপনটি এর আগে হুয়ান রিকেলমে ও লিওনেল মেসিও করেছেন। আজ রাতে সেই উদ্যাপন ফাইনালের মঞ্চে দেখার অপেক্ষায় পুরো আর্জেন্টিনা।