
প্রতিনিধি 8 July 2026 , 11:43:46 প্রিন্ট সংস্করণ

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক অঘটনের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরেছে মিশর। শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ দিকে ১৫ মিনিটের মধ্যে টানা তিন গোল হজম করে বিদায় নিয়েছে আফ্রিকার দলটি।
এমন নাটকীয় হারের পর রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ঝেড়েছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তার ক্ষোভের মাত্রা এতটাই যে, বিশ্বকাপের বাকি কোনো ম্যাচই আর দেখবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন হোসাম হাসান।
“আমি দেশে ফিরে যাচ্ছি। এই টুর্নামেন্টের আর কোনো ম্যাচ দেখব না। আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে, তা মোটেও ন্যায্য ছিল না। আমরা একটি পেনাল্টি পাওয়ার যোগ্য ছিলাম। আমাদের একটি গোলও বাতিল করা হয়েছে। কেন সেটি বাতিল হলো, আমি বুঝতে পারছি না।”
ম্যাচের ৫৮ মিনিটের মাথায় মোস্তাফা জিকো গোল করলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সেটি বাতিল করেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলের আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় মিশরের এক ফুটবলার ফাউল করেছেন।

ম্যাচের শেষ দিকে হামদি ফাথির ওপর ফাউলের অভিযোগ তুলে পেনাল্টির দাবিও জানায় মিশর। কিন্তু রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপরই উল্টো প্রান্তে গিয়ে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনা।
এই সিদ্ধান্তগুলোকে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট মনে করছেন হাসান।
“গোলগুলো যদি আমাদের ভুল থেকেও হয়ে থাকে, সবচেয়ে বড় ভুল ছিল সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে আমাদের প্রাপ্যটা না পাওয়া।”
হার মেনে নিতে না পারার কথাও বলেন মিশর কোচ।
“আমি হারতে পছন্দ করি না। আর আজকের মতো অন্যায্য মনে হওয়া পরাজয় হলে সেটা আরও কষ্টের। সমর্থকদের শুধু বলতে চাই, তারা যেন হতাশ না হন। আমরা তাদের আরও আনন্দ দিতে চেয়েছিলাম।”
তবে নিজের দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হাসান। তার মতে, খেলোয়াড়েরা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছেন এবং কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
“ছেলেদের চেষ্টায় আমি সন্তুষ্ট। আমাদের অধিকাংশ ফুটবলার মিশরের ঘরোয়া লিগে খেলে। অন্য অনেক জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা ইউরোপে খেলে, পেশাদার পরিবেশে বেড়ে উঠেছে। তারপরও মোহামেদ সালাহ ও ওমর মারমুশ ছাড়া প্রায় পুরোপুরি স্থানীয় লিগের খেলোয়াড় নিয়েই আমরা যেকোনো দলের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে পেরেছি।”