
প্রতিনিধি 19 April 2026 , 1:17:03 প্রিন্ট সংস্করণ

কৃষি তথা ধান চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, নেপাল ও জাপান। টয়োটা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং জাপানের শেয়ার দ্য প্লানেট অ্যাসোসিয়েশনের সহায়তায় আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি), বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি), নেপাল যৌথভাবে একটি যুগান্তকারী প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দুই বছর মেয়াদী (নভেম্বর ২০২৫- অক্টোবর ২০২৭) এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে জার্মপ্লাজম এবং কৃষি প্রযুক্তির বিনিময়কে উৎসাহিত করা।

এই লক্ষ্যে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি), বাংলাদেশে প্রকল্পের ইনসেপশন ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়। “জলবায়ু পরিবর্তনের চাপে ধানের উৎপাদনশীলতা ও স্থিতিস্থাপকতা: জলবায়ু-সহনশীল ধানের জাতের উপর আলোকপাতসহ বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময়” শীর্ষক প্রকল্পের ইনসেপশন ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইরি, বাংলাদেশ এবং ইরি নেপালের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. হোমনাথ ভান্ডারি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইরি বাংলাদেশের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট এবং রাইস ব্রিডার ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং প্ল্যান্ট ব্রিডিং ডিভিশনের প্রধান ড. কে এম ইফতেখারুদ্দৌলা এবং নেপালের ন্যাশনাল রাইস রিসার্চ প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর ড. মথুরা যাদব। কর্মশালাটির সভাপতিত্ব করেন জাপানের শেয়ার দ্য প্ল্যানেট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারপার্সন তেতসুও সুতসুই।
কর্মশালার শুরুতেই প্রকল্প সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশের এসিস্টেন্ট সায়েন্টিস্ট ড. মুহিউদ্দিন ফারুকী।


এরপর কর্মশালায় প্রকল্প নিয়ে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন উপস্থিত আলোচকরা। বাংলাদেশ ও নেপালের ধান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মধ্য দিয়ে নতুন যুগের সূচনা হবে বলে আশা করেছেন আলোচকরা। পাশাপাশি দুই বছরের ছোট এই প্রকল্পটি সফল হলে পরবর্তীতে বড় আকারে কাজের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তারা।
প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত জৈবিক চাপ (ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট ও রাইস ব্লাস্ট প্রতিরোধী ধানের জাত) এবং অজৈবিক চাপ (স্বল্পমেয়াদী জাত, খরা-সহনশীল জাত এবং শীত-সহনশীল জাত) বিষয়ে বাংলাদেশ ও নেপালে বিদ্যমান ধান প্রযুক্তি ও জ্ঞানের তালিকা তৈরি করা; বাংলাদেশ ও নেপালের জলবায়ু হটস্পট অঞ্চলে জৈবিক ও অজৈবিক চাপ-সহনশীল জাতের পরীক্ষামূলক চাষ ও প্রদর্শন করা; এনজিও, কৃষক গোষ্ঠী, সম্প্রসারণ কর্মী, গবেষক এবং নীতিনির্ধারকদের সাথে তাদের স্থানীয় অভিযোজনযোগ্যতা মূল্যায়ন করা; জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার জন্য কর্মশালা, সেমিনার এবং বিনিময় সফরের আয়োজন করা; ধানের পোকা ও রোগ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীলতার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়কে উৎসাহিত করা এবং পোকা প্রতিরোধ, স্বল্পমেয়াদী জাত, খরা সহনশীলতা, শীত সহনশীলতা এবং পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উন্নত ধানের জাতের প্রচারকে উৎসাহিত করার বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
কর্মশালায় নেপালের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল রাইস রিসার্চ প্রোগ্রামের কীটতত্ত্ববিদ মো. ফারহাত আলী, ইরি নেপালের গবেষক প্রেম রাজ ভাট, জনকি উইম্যান অ্যাওয়ারনেস সোসাইটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ভাব নারায়ণ ঝা। ইরি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন এসিস্টেন্ট সায়েন্টিস্ট শেখ ফারাহ দিবা, হোসনা জান্নাত তন্নী, মোঃ মনিরুজ্জামান। শেয়ার দ্যা প্লানেট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন আকিরা ইদা এবং বাংলাদেশ রিপ্রেজেন্টেটিভ পরিমল কুমার রায়। আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যাপ্টেন’স টিভির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও কমিউনিকেশনস স্পেশালিস্ট মো. ইসহাক ফারুকী।
বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শিবু পদ বিশ্বাস, প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. বিল্লাল হোসেন, পাপড়ির নির্বাহী পরিচালক আবু বাসেদ ও ব্যবস্থাপক জাকিউল আলম ভূইয়া, বারসিকের পরিচালক এবিএম তৌহিদুল আলম, অ্যাসেড হবিগঞ্জের নির্মল কুমার বিশ্বাস ও লতিফা আক্তার।