
প্রতিনিধি 7 July 2026 , 3:22:34 প্রিন্ট সংস্করণ

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে বেলজিয়াম। তবে মাঠের ফুটবলের চেয়েও রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কই বিশ্বজুড়ে মূল আলোচনার বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করার পর বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন খোঁচা, ‘পারলে এই হার বাতিল করে দেখাও!
ঘটনার শুরু শেষ বত্রিশের ম্যাচে- বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ডিফেন্ডার তারিক মুহারোমোভিচকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড পেয়েছিলেন মার্কিন তারকা ফোলারিন বালোগুন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী সিয়াটলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে তার নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত ছিল।
তবে ম্যাচের একদিন আগে নাটকীয়ভাবে বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ১২ মাসের জন্য স্থগিত করে ফিফা। এর পেছনে মূল ভূমিকা ছিল খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন, ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে বলেছিলেন। এরপরই বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
অবশ্য ইনফান্তিনো দাবি করেছেন, ফিফার বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত উপায়ে কাজ করে। তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছিলেন, বালোগুনের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি জানায়, এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার পূর্ণ এখতিয়ার তাদের রয়েছে।

ফিফার এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশনও ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বালোগুনের খেলার যোগ্যতা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিল, যদিও তা সফল হয়নি। টুর্নামেন্টের মাঝপথে এভাবে নিয়ম ভঙ্গ করে ফিফা সীমা অতিক্রম করেছে বলে আখ্যা দেয় ইউয়েফা।
তবে মাঠের লড়াইয়ে এই সমস্ত বিতর্ককে উড়িয়ে দিয়েছে বেলজিয়াম। চার্লস ডি কেটেলারের জোড়ার সঙ্গে হান্স ভানাকেন ও রোমেলু লুকাকুর গোলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে তারা কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে।
আর ম্যাচের পরেই শুরু হয় আসল মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। বেলজিয়ামের জয়ের পর দলের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুর কানে হাত দিয়ে গোল উদযাপনের একটি ছবি পোস্ট করা হয়। যার ক্যাপশনে সরাসরি ফিফা ও ট্রাম্প প্রশাসনকে খোঁচা দিয়ে লেখা হয়, ‘Overturn this (এবার এটা বাতিল করে দেখাও)।’
চতুর্থ গোলের পর বেলজিয়ামের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনী প্রচারণায় বহুল আলোচিত ট্রাম্পের সিগনেচার ড্যান্স বা ‘ট্রাম্প ড্যান্স’ অনুকরণ করে নাচতে দেখা যায়।
বেলজিয়ান মিডফিল্ডার নিকোলাস রাসকিন ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘দলের মধ্যে একটা তীব্র অন্যায়ের অনুভূতি কাজ করছিল। আমরা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যা বলার মাঠেই বলব। প্রকৃতিতে সবসময় একটা প্রাকৃতিক সুবিচার থাকেই, আজ আমরা সেটাই পেয়েছি।’
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে ১৮৯টি লাল কার্ডের মধ্যে কেবল ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের গারিঞ্চা এভাবে পার পেয়েছিলেন। তখন অবশ্য স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞার নিয়ম ছিল না। ফলে ২০২৬ সালে ট্রাম্প-ফিফার এই আঁতাতকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় কালো অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।