
প্রতিনিধি 25 August 2026 , 5:17:00 প্রিন্ট সংস্করণ

আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর মামলায় আদালতে জমা দেওয়া মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্টে হয়ে গেছে বড় ধরনের ভুল। যে কথা স্বীকার করেছে দেশটির স্বাস্থ্য বীমা প্রতিষ্ঠান সুইস মেডিকেল।
এই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ম্যারাডোনার নামে জমা দেওয়া কিছু মেডিকেল রিপোর্ট আসলে তার বাবার।
এই বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছে সুইস মেডিকেল। যা দেখেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই চিঠিতে সুইস মেডিকেল জানায়, তদন্তকারী মেডিকেল কমিশনের কাছে জমা দেওয়া পরীক্ষার রিপোর্টগুলো ভুলবশত ‘দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা’ নামের অধীনে সংরক্ষিত ছিল।
পরে দেখা যায়, সেগুলো আসলে ম্যারাডোনার বাবা দিয়েগো সালুস্তিয়ানো ম্যারাডোনার। তিনি ২০১৫ সালে মারা যান- ছেলের মৃত্যুর পাঁচ বছর আগে।
গত সপ্তাহে ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত সাত স্বাস্থ্যকর্মীর একজনের আইনজীবী বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। এরপর জানা যায়, ম্যারাডোনার কিডনির অবস্থা নিয়ে মামলার শেষ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এক বিশ্লেষণও করা হয়েছিল ভুল রিপোর্টের ভিত্তিতে।

ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগে চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিডনির বিষয়টি ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এক নেফ্রোলজিস্ট আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানিয়েছিলেন, তার চিকিৎসকদের কিডনির সমস্যাটিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ওই বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণের ভিত্তি ছিল ম্যারাডোনার বাবার মেডিকেল পরীক্ষার ফল।
এই ভুলের কারণে মামলার কার্যক্রম এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এতে মামলাটি নিয়ে আদালতও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। এর আগে বিচারকদের একজনের স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে গত বছর প্রথম দফার বিচারপ্রক্রিয়াও ভেস্তে গিয়েছিল।
২০২০ সালের নভেম্বরে ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার অস্ত্রোপচারের দুই সপ্তাহ পর বুয়েনস এইরেসের তিগ্রে এলাকায় ভাড়া নেওয়া একটি বাড়িতে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ও ফুসফুসে অতিরিক্ত তরল জমে তার মৃত্যু হয়।
ম্যারাডোনার চিকিৎসায় যুক্ত সাত স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, মৃত্যুর আগে তাকে তারা গুরুতরভাবে অবহেলা করেছিলেন ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেননি। অভিযুক্তরা অবশ্য এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করছেন।
গত এপ্রিল থেকে নতুন করে শুরু হওয়া এই বিচারপ্রক্রিয়া অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা। আগামী বৃহস্পতিবার আবার শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।