
প্রতিনিধি 2 July 2026 , 1:51:35 প্রিন্ট সংস্করণ

একজন কথা বলেন গোলের ভাষায়। অন্যজনের ভাষা প্রকাশের মাধ্যম পাস, ছন্দ আর খেলার নিয়ন্ত্রণ।
একজনের নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে আকাশছোঁয়া লাফ কিংবা বজ্রগতির কোনো শট। অন্যজনের কথা মনে পড়লে ফুটে ওঠে নিখুঁত এক মিডফিল্ড অর্কেস্ট্রার ছবি। দুই চরিত্রের প্রথমজন পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। দ্বিতীয়জন ক্রোয়েশিয়ার মধ্যমণি লুকা মডরিচ।
শেষ ষোলোতে দুই দলের ম্যাচটি তাই শুধু দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটি বিশ্ব ফুটবলের দুই জীবন্ত কিংবদন্তির একজনের ‘ওয়ান লাস্ট ডান্স’-এর মতো বিদায়ের বিষাদে লেখা গল্পও হয়ে উঠতে চলেছে।
দুজনের বয়সই ৪০ ছাড়িয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম ৪০ বছরের বেশি বয়সী দুই আউটফিল্ড ফুটবলার (গোলকিপার নন এমন ফুটবলার) একই ম্যাচে মুখোমুখি হবেন।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ৪০ পেরিয়ে বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি ছিল শুধু ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলার। সেই বিরল তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন রোনালদো ও মডরিচ। বয়সের সীমা পেরিয়ে তাঁরা যেন প্রমাণ করছেন, কিংবদন্তিদের ক্যালেন্ডার অন্য নিয়মে চলে।
তবে শেষ ষোলোতে পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া মহারণের আগে দুই তারকাকে নিয়ে কানাঘুষাও আছে। এর বড় অংশ জুড়ে যে প্রশ্নটি দেয়ালে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, সেটি হচ্ছে-দুজন এই মুহূর্তে দলের জন্য কতটা কার্যকর? ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে রোনালদোর এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছিল সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয়েই।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোলে তা কিছুটা দমানো গিয়েছিল বটে। তবে কলম্বিয়ার বিপক্ষে রোনালদোর ফের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স সমালোচনা নতুন করে বেগবানও করেছে। ‘আমি ২৩ বছর ধরে পেশাদার ফুটবল খেলছি। যখনই কিছু খারাপ হয়, তখনই বলা হয়, ক্রিস্তিয়ানো শেষ, সে বুড়িয়ে গেছে’-এ কথায় রোনালদো অবশ্য বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ‘আউটসাইড নয়েজ’ তাঁকে বিচলিত করে না তেমন। নক আউটের বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে পর্তুগিজ সমর্থকরা তাই আশাবাদী হতেই পারেন।
তবু বিতর্ক থামছে না। মডরিচের ব্যাপারটা অবশ্য রোনালদোর মতো আলোচিত নয়। বরাবরের মতো নীরবতাই তাঁর সঙ্গী। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার ভরাডুবির প্রথম ম্যাচে তাঁকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঘণ্টাখানেক পরে তুলে নেন কোচ জলাতকো দালিচ। ভাবা হচ্ছিল, বয়স হয়তো এবার সত্যিই তাঁকে ছুঁয়ে ফেলেছে। পানামার বিপক্ষে দলের ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচে খেলেন ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এরপর ঘানার বিপক্ষে নিকোলা ভ্লাসিচের জয়সূচক গোলে অসাধারণ অ্যাসিস্ট করে আবারও বুঝিয়ে দেন, বড় মঞ্চে তাঁর মস্তিষ্ক এখনো আগের মতোই তীক্ষ।
মডরিচের ক্যারিয়ারকে সংখ্যায় মাপা কঠিন। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলা, ২০২২ সালে সেমিফাইনালে পৌঁছে দেওয়া-মাত্র ৪০ লাখ মানুষের একটি দেশকে ধারাবাহিকভাবে বিশ্ব ফুটবলের অভিজাতদের কাতারে তুলে আনার পেছনে সবচেয়ে বড় কারিগর তিনিই। মডরিচ কি আরেকবার পারবেন? নাকি এবার শেষ হাসিটা রোনালদোই হাসবেন!