
প্রতিনিধি 28 October 2026 , 11:30:46 প্রিন্ট সংস্করণ
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে কোনো রাখঢাক না রেখেই কথা বলেছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো। সব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি স্বীকার করেছেন স্পেনই শিরোপার যোগ্য দাবিদার ছিল।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের সাংবাদিক লস এদুলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোমেনা একদম খোলামেলা সুরে বলেন, ‘আমরা ওইসব আবোল তাবোল কথায় কান দিই না।’
ফাইনালে মাঠে নামার আগের শারীরিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে রোমেরো বলেন, ‘ফাইনালে এমন কিছু ঘটেনি। সামাজিক মাধ্যমের কারণে এখন কেউ একটা ফালতু জিনিস পোস্ট করলেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। স্পেন দারুণ খেলেছে, আর আমরা তো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ফাইনালে পৌঁছেছিলাম। এটাকে মিরাকল বলা যায় কিনা জানি না, তবে পুরো বিশ্বকাপটাই আমাদের শারীরিকভাবে ভীষণ কঠিন গেছে। আমার মতো দলের অনেকেই কোনোমতে ফিট হয়ে খেলেছে।’
টুর্নামেন্টজুড়ে দলের খেলোয়াড়দের ইনজুরির লম্বা তালিকার কথা তুলে ধরে রোমেরো জানান, ‘পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই আমাদের ইনজুরির সঙ্গে লড়তে হয়েছে: আমরা লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে পেয়েছি পাঁজরের চোট নিয়ে, যা নিয়ে কেউ কথাই বলে না… আমি নিজে, ইংল্যান্ড ম্যাচের পর টেন্ডনের চোটের কারণে যে অনুশীলনই করতে পারিনি; লিচাও ঠিক একই অবস্থায় ছিল; মলিও তাই; টাগলিয়াফিকোও কোনোমতে ফিট ছিল; আর দিবু খেলেছে ভাঙা আঙুল নিয়ে… আমরা আমাদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিলাম।’
সামাজিক মাধ্যমে চলা নানা ষড়যন্ত্র ও সমালোচনার বিষয়ে বেশ শক্ত অবস্থান নিয়ে কুটি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘কী বলা হচ্ছে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। যতক্ষণ আমি নিজের কাছে পরিষ্কার আছি, এবং শেষ মিনিট পর্যন্ত নিজের সবটুকু দিয়েছি, সেটাই আমাকে স্বস্তি দেয়।’

টটেনহ্যামের তারকা ডিফেন্ডার রোমেরো আরও বলেন, ‘মানুষ কী বলছে, কিংবা কোনো পরিচিত ব্যক্তি যে কিনা কনটেন্ট বানাতে চায়, সে বাইরে গিয়ে খেলোয়াড়দের নিয়ে খারাপ কথা বলবে… আমরা ওইসব বাজে জিনিসে কান দিই না। গত ছয়-সাত বছর ধরে এই জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার সৌভাগ্য আমার হয়েছে, এই পুরো সময়ে আমরা সবসময় নিজেদের সেরাটাই দিয়েছি।’
বিশ্বকাপের ঠিক আগে পাওয়া রোমেরোর একটি ইনজুরি পুরো আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করেছিল। সেই মুহূর্তটি স্মরণ করে এই ফুটবলার কোচের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সবার আগে আমি স্কালোনিকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে দলে রাখার জন্য, কারণ অন্য কোনো কোচ হলে হয়তো শুরুতেই আমাকে বাদ দিয়ে দিতো। তিনি আমার ওপর ভরসা রেখেছিলেন।’
ওই ইনজুরির ঘটনাটি নিয়ে রোমেরো বলেন, ‘আমার যখন হাঁটুতে চোট লাগে, তখন আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। আমার মাথায় প্রথম যে বিষয়টি এসেছিল, তা হলো আমি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাচ্ছি। আমার মনে হয়েছিল চোটটা আরও অনেক বেশি গুরুতর। তবে দুই দিন পর যখন স্ক্যান করানো হলো, দেখা গেল সেটি লিগামেন্টের সমস্যা এবং সবকিছু বিবেচনা করলে আমি শেষ ষোল বা কোয়ার্টার ফাইনালে ফিট হয়ে উঠতে পারব।’
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে কুটি বলেন, ‘আমি অনেক ভুগেছি, তবে ভাগ্য ভালো যে আমি শেষ পর্যন্ত পেরেছি। দারুণ একটা ঝুঁকি ছিল, তবে আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করেছি এবং প্রতিটি ম্যাচেই মনে হয়েছে যে আমি নিজের সেরাটা দিতে পেরেছি। কোচ এবং সতীর্থরা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিল, আমি তার প্রতিদান দিতে পেরেছি।’
বিশ্বকাপের সময় পাওয়া সেই চোট এবং ফাইনাল ম্যাচে নিজের অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার বলেন, ‘ইংল্যান্ড ম্যাচের পর আমার অ্যাকিলিস টেন্ডনে একটা সমস্যা দেখা দেয়, যা আজও আমার সঙ্গে রয়ে গেছে। ফাইনালের আগের প্রায় কোনো দিনই আমি ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারিনি। কোনোমতে ব্যথানাশক বড়ি আর ইনজেকশন নিয়ে ফাইনালে নেমেছিলাম, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে এসে আমার শরীর আর একদমই কুলিয়ে উঠছিল না।’
নিজের আক্ষেপ ও দলের প্রতি দায়িত্ববোধের কথা প্রকাশ করে রোমেরো যোগ করেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে ফাইনালে নামতে হওয়ায় আমার খুব রাগ হয়েছিল। আপনি তো সবসময়ই খেলতে চাইবেন, একটা ফাইনাল ম্যাচ তো আর ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। তবে যদি আমার মনে হতো যে আমি কাউকে আটকাতে পারছি না এবং এর ফলে দলের ক্ষতি হচ্ছে, তবে আমি ঠিকই হাত তুলে সরে দাঁড়াতাম-যাতে আমার চেয়ে ভালো পারফর্ম করতে পারে এমন কোনো সতীর্থ মাঠে নামতে পারে। তবে আমি নিজের মধ্যে খেলার মতো প্রস্তুতি অনুভব করেছিলাম, আর সে কারণেই আমি খেলতে চেয়েছিলাম।’