
প্রতিনিধি 14 June 2026 , 3:21:01 প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ ১৭ বছরের আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে নিয়োগ পাওয়া ২৭তম বিসিএসের বঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ চাকরিতে যোগদান করলেও এখনো বেতন-ভাতা পাননি। চাকরিতে যোগদানের প্রায় ছয় মাস পার হলেও বেতন নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে শতাধিক কর্মকর্তা আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশে ২০০৭ সালে বাতিল হওয়া ২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরিপ্রত্যাশীদের নিয়োগ দেয় সরকার। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ৬৭৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। পরে ২০২৬ সালের মে মাসে আরও ৯৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রথম ধাপে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ৫৫০ জন কর্মকর্তা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি চাকরিতে যোগদান করেন। বর্তমানে তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও মাঠ প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কর্মকর্তা এখনো জানুয়ারি মাস থেকে কোনো বেতন উত্তোলন করতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আদালতের রায়ের ভিত্তিতে তাদের নবম গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হলেও চাকরিকাল ২০০৮ সাল থেকে গণনা, জ্যেষ্ঠতা সংরক্ষণ, পে-প্রোটেকশন এবং পূর্ববর্তী চাকরির অভিজ্ঞতা বিবেচনার মতো বিষয়গুলোতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত নির্দেশনা না আসায় বেতন নির্ধারণ আটকে আছে।

এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের মধ্যে কেউ নতুন কর্মকর্তা, আবার কেউ আগে অন্য ক্যাডার বা নন-ক্যাডার সরকারি চাকরিতে ছিলেন। বেতন নির্ধারণে স্পষ্টতা না থাকায় অনেকেই এখনো বেতন পাচ্ছেন না।”
এদিকে অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রবিধি ও বাস্তবায়ন) দিলরুবা শাহিনা জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এ-সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
তিনি বলেন, “আদালতের রায়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের চাকরিগত পটভূমি, যোগদানের সময় এবং প্রাপ্য সুবিধা ভিন্ন হওয়ায় প্রতিটি বিষয় পৃথকভাবে পর্যালোচনা করতে হচ্ছে। তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নিলে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।”
অর্থ বিভাগের আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় স্পষ্টীকরণের কাজ প্রায় শেষ। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকার এরই মধ্যে আদালতের রায়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ অনুযায়ী তাদের নিয়োগ সংশ্লিষ্ট ব্যাচের প্রথম নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়োগকাল থেকে ভূতাপেক্ষিকভাবে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে এবং ধারণাগত জ্যেষ্ঠতাও বহাল থাকবে। তবে প্রকৃত যোগদানের আগের কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা তারা পাবেন না।
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে চাকরি পাওয়া কর্মকর্তারা দ্রুত বেতন-ভাতা প্রদানের মাধ্যমে তাদের ভোগান্তির অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়েছেন।