
প্রতিনিধি 23 September 2026 , 4:30:02 প্রিন্ট সংস্করণ
নড়বড়ে রক্ষণভাগ সামাল দেওয়ার একটা কৌশলগত সমাধান হয়তো খুঁজে পেয়েছেন বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিক। সেভিয়ার বিপক্ষে চোট পেয়ে দেড় মাসেরও বেশি সময়ের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন। আর এই শূন্যস্থান পূরণে হন্যে হয়ে সমাধানের পথ খুঁজছিলেন কাতালান জায়ান্টদের কোচ।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্ত’-এর খবর অনুযায়ী, বার্সার সিনিয়র দলকে শক্তিশালী করতে দারুণ এক বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছেন ঘানার ১৯ বছর বয়সী তরুণ ডিফেন্ডার হাফিজ গারিবা। বার্সেলোনার রিজার্ভ দলের হয়ে ইতোমধ্যেই তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি; লিগের প্রথম তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই দলকে গোল হজম না করতে (ক্লিন শিট ধরে রাখতে) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
হাফিজ গারিবার বার্সেলোনায় আসার গল্পটা রীতিমতো সিনেমার মতো। ঘানার রাজধানী আক্রার দারিদ্র্যপীড়িত গলি থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর ফুটবল যাত্রা। সেখানেই তাঁর ভেতরের প্রতিভাকে চিনে নেয় ‘মারসেত’ ফাউন্ডেশন। কিন্তু স্পেনে পা রাখার পরপরই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে মূল দলে খেলার স্বপ্ন আটকে যায়। বাধ্য হয়ে প্রথমদিকে কাতালান চতুর্থ বিভাগের ক্লাব ‘কুদোলার’-এর হয়ে মাঠে নামতে হয়েছিল এই তরুণকে।

ছোটখাটো ক্লাবে খেললেও নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে দুই স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার স্কাউটিং নেটওয়ার্কে আলোড়ন তোলেন হাফিজ। ‘স্পোর্ত’-এর তথ্যমতে, গারিবার খেলা দেখতে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা—দুই ক্লাবই স্কাউট পাঠায় এবং ঠিক একই সময়ে তাঁকে দলে ভেড়াতে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করে।
তবে লড়াইটি বেশ চতুরতার সঙ্গেই নিজের পক্ষে নিয়ে নেয় বার্সেলোনার বোর্ড। ক্লাবের একাডেমি কর্মকর্তা টোনি এরনান্দেস দ্রুত পদক্ষেপ নেন; কাতালান ক্লাবটির দুর্দান্ত প্রজেক্ট গারিবার সামনে তুলে ধরে ‘লা মাসিয়া’য় তাঁর যোগদান নিশ্চিত করেন। আর রিয়াল মাদ্রিদকে ফিরতে হয় খালি হাতেই ।
‘স্পোর্ত’ জানিয়েছে, গ্রীষ্মের শুরুতে যে চোট ও দুর্ভাগ্যের মুখে পড়েছিলেন, তা দ্রুতই কাটিয়ে উঠেছেন গারিবা। হঠাৎ এক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইংল্যান্ডের ক্যাম্পে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল তাঁর। তবে ঠিক সঠিক সময়েই পুরো ফিটনেস ফিরে পান এই ঘানায়ান ডিফেন্ডার এবং রিজার্ভ দলের রক্ষণভাগের অপরিহার্য স্তম্ভ হয়ে ওঠেন।

গারিবার এই অসাধারণ ছন্দ নজর কাড়ে ফ্লিকের, যিনি এই তরুণের দক্ষতা সম্পর্কে বেশ ভালোভাবেই অবগত। জার্মান এই কোচের খেলার কৌশল মূলত প্রতিপক্ষের অর্ধে ডিফেন্স লাইন তুলে (হাই ডিফেন্সিভ লাইন) আক্রমণের ওপর নির্ভরশীল। এর জন্য প্রয়োজন এমন ডিফেন্ডার, যাঁদের গতি আছে এবং দ্রুত পিছনের ফাঁকা জায়গা কভার করতে পারেন। আর এটাই গারিবার সবচেয়ে বড় শক্তি।
একদিকে ঠাসা সূচি, অন্যদিকে মূল দলে চোটের মিছিল—সব মিলিয়ে বার্সার মূল দলে গারিবার কদর দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রথম দলে তিনি ফ্লিকের জন্য এক ট্রাম্পকার্ড প্রমাণিত হতে পারেন। সময়ের ব্যবধানে ইতিমধ্যেই প্রমাণিত যে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালকে টেক্কা দিয়ে গারিবাকে ছিনিয়ে নেওয়া বার্সেলোনার জন্য এক মাস্টারস্ট্রোকই ছিল। এবার বার্সেলোনার মূল দলে এই প্রতিভা জায়গা করে নিতে পারেন কিনা সেটাই দেখার।