
প্রতিনিধি 21 July 2026 , 11:26:50 প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়েই দেশে ফিরেছে আর্জেন্টিনা। শিরোপা ধরে রাখার মিশন ব্যর্থ হলেও সাবেক চ্যাম্পিয়নদের জন্য ভালোবাসায় কোনো কমতি রাখেননি সমর্থকেরা। রাজধানী বুয়েনস এইরিসের এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাল গালিচা, অর্কেস্ট্রার সুর আর হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে বরণ করে নেয়া হয় লিওনেল স্কালোনির দলকে।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় আর্জেন্টিনা দলের চার্টার্ড বিমানটি এজেইজা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমান থেকে একে একে নামেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া, প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি, কোচিং স্টাফ এবং ১৯ জন ফুটবলার। তবে সেই বহরে ছিলেন না অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ফুটবলার নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাওয়ায় দেশে ফেরেননি।
বিমানবন্দরে দলকে স্বাগত জানাতে বিশেষ আয়োজন করেছিল এএফএ। লাল গালিচা বিছিয়ে দেয়া হয় খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের জন্য। গ্রানাদেরোস অর্কেস্ট্রা বাজায় সমর্থকদের প্রিয় গান ‘মুচাচো’। বিশ্বকাপ ট্রফি সঙ্গে না থাকলেও পরিবেশে ছিল জাতীয় দলের প্রতি সমর্থকদের অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রকাশ।

বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে হাজারো সমর্থক বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হন। জাতীয় পতাকা, জার্সি ও ব্যানার হাতে প্রিয় দলকে স্বাগত জানান তারা। অনেকের চোখেমুখে ছিল হতাশা, কিন্তু সেই হতাশার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।

বিশ্বকাপ জিততে না পারায় এবার বিজয় উৎসবের কোনো আয়োজন ছিল না। তবু বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে শহরের পথে যাত্রা করেন স্কালোনির শিষ্যরা। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থকেরা হাত নেড়ে এবং স্লোগান দিয়ে ফুটবলারদের অভিনন্দন জানান। খেলোয়াড়েরাও হাত নেড়ে তাদের ভালোবাসার জবাব দেন।
সমর্থকদের এই সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দর্শকদের যে সমর্থন দল পেয়েছে, তা ছিল অসাধারণ। যেকোনো পরিস্থিতিতে দলের পাশে থাকার জন্য সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য পূরণ না হলেও দলের ঐক্য ও পারস্পরিক বন্ধন অটুট থাকবে।
দেশে না ফিরলেও সমর্থকদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ফাইনালের হার থেকে সেরে উঠতে তার অনেক সময় লাগবে। তবে এই বিশ্বকাপের অসংখ্য সুন্দর স্মৃতি তিনি আজীবন বয়ে বেড়াবেন।
মেসি আরও বলেন, প্রতিটি ম্যাচে দল নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে খেলেছে। যারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিঃস্বার্থভাবে সমর্থন দিয়েছেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে অভিনন্দনও জানান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
বিশ্বকাপ শেষে আর্জেন্টিনা দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ফাইনালের পর প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি মেসি। ফলে জাতীয় দলে তার পথচলা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
শিরোপা হারানোর বেদনা থাকলেও দেশে ফেরার দিনে আরেকবার স্পষ্ট হয়েছে, আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই দল এখনো গর্বের প্রতীক। বিশ্বকাপ ট্রফি ফিরিয়ে আনতে না পারলেও সমর্থকদের ভালোবাসা ও সম্মান নিয়েই দেশে ফিরেছে আলবিসেলেস্তেরা।