
প্রতিনিধি 21 June 2026 , 11:55:04 প্রিন্ট সংস্করণ

ফুটবলের বিশ্বকাপ শুধু গোল, জয়-পরাজয় কিংবা ট্রফির গল্প নয়; এটি মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সংগ্রাম এবং স্বপ্নপূরণের গল্পও। ২০২৬ বিশ্বকাপে এমন কয়েকজন ফুটবলার আছেন, যাদের জীবনের শুরু হয়েছিল যুদ্ধ, সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির কঠিন বাস্তবতায়। কেউ জন্মেছেন শরণার্থী শিবিরে, কেউ বা উদ্বাস্তু পরিবারের সন্তান। কিন্তু প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে আজ তারা বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের প্রতিভার ঝলক দেখাচ্ছেন।
কানাডা দলের অধিনায়ক আলফোনসো ডেভিস সেই অনুপ্রেরণার অন্যতম প্রতীক। লাইবেরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে তার পরিবার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। ঘানার একটি শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া ডেভিস পরে পরিবারসহ কানাডায় আশ্রয় পান। সেখান থেকেই শুরু হয় তার ফুটবল যাত্রা। আজ তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার এবং কানাডার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন।

অস্ট্রেলিয়া দলের উইঙ্গার আওয়ার মাবিলের গল্পও কম অবিশ্বাস্য নয়। দক্ষিণ সুদানের সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা তার পরিবার কেনিয়ার কাকুমা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল। সেই শিবিরেই জন্ম মাবিলের। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় নতুন জীবন শুরু করে তিনি কঠোর পরিশ্রম ও প্রতিভার জোরে জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে তার উপস্থিতি লাখো শরণার্থী শিশুর জন্য আশার বার্তা।

একইভাবে অস্ট্রেলিয়ার তরুণ প্রতিভা নেস্টোরি ইরানকুন্ডা জন্ম নিয়েছিলেন তানজানিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে। বুরুন্ডির সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা পরিবারের সন্তান ইরানকুন্ডা অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠেন। তার গতিময় খেলা ও গোল করার দক্ষতা ইতোমধ্যেই বিশ্ব ফুটবলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার আরেক ফুটবলার মোহাম্মদ তুরের শৈশবও কেটেছে বাস্তুচ্যুতির বাস্তবতায়। লাইবেরিয়ার যুদ্ধের কারণে তার পরিবার গিনির একটি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়ায় নতুন জীবন শুরু করে তিনি ধীরে ধীরে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর স্বপ্ন পূরণ করেন।
বিশ্ব ফুটবলে এমন আরও অনেক তারকা রয়েছেন, যাদের পরিবার যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। আন্তোনিও রুডিগার, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, ভিক্টর মোজেস এবং আসমির বেগোভিচ তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

বিশ্বকাপের ঝলমলে আলোয় যখন কোটি কোটি দর্শক ফুটবলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, তখন এসব খেলোয়াড়ের জীবনগল্প মনে করিয়ে দেয়- প্রতিভা ও স্বপ্নের কোনো সীমানা নেই। শরণার্থী শিবিরের ধুলোমাখা পথ থেকে বিশ্বকাপের সবুজ মাঠে পৌঁছানোর এই যাত্রা মানবতার এক অসাধারণ বিজয়ের গল্প, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।