
প্রতিনিধি 16 July 2026 , 10:30:39 প্রিন্ট সংস্করণ

ফিফার শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জয়ের পর মাঠে ‘মালভিনাস বা ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। তবে ফিফার কোনো খেলায় রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। তাই এ ধরনের শাস্তি পেতে পারে দলটি।
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে নাটকীয়ভাবে ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয়। ম্যাচের শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের দুটি গোলে জয় নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল। আগামী রোববারের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত একটি ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধ চলছে। ১৯৮২ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই দ্বীপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়। সেই সংঘাতে ৬৫৫ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। এছাড়া দ্বীপপুঞ্জের তিনজন বাসিন্দাও প্রাণ হারান।

এ ধরনের রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের কারণে অতীতেও শাস্তি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শন করায় আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, এটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দলীয় আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল।

সেমিফাইনাল জয়ের পর আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়াররুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, ‘এটি শুধু আরেকটি ম্যাচ ছিল না।’ তিনি আর্জেন্টাইন সেনাদের একটি ভিডিও শেয়ার করে আরও বলেন, ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার। তারা স্টেডিয়ামে এই বার্তা নিয়ে যেতে নিষেধ করেছে, কিন্তু তারা ভুলে গেছে-আমরা এটিকে আমাদের রক্তে ও হৃদয়ে বহন করি।’
ম্যাচের আগে ভিয়াররুয়েল মন্তব্য করেছিলেন, এই সেমিফাইনাল ছিল ‘দখলদারদের তাদের জায়গা দেখিয়ে দেওয়ার’ লড়াই।
এর আগে শেষ ষোলোতে মিশরকে ৩-২ গোলে হারানোর পরও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ফকল্যান্ড, ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসিকে নিয়ে স্লোগান দিয়েছিলেন। তবে সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, তিনি ফুটবল ও রাজনীতিকে একসঙ্গে মেলাতে চান না।
ঐতিহাসিক বিরোধের কারণে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল অন্যবারের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর।