
প্রতিনিধি 20 June 2026 , 6:35:42 প্রিন্ট সংস্করণ

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের কারণে দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। খবর সিএনএনের।
শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা অবরোধে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। মানুষ ঠিকমতো কাজে যেতে পারছে না, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছে না এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। তাই দেশের প্রধান সড়কগুলো সচল করতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
এই ঘোষণার ফলে এখন সেনাবাহিনী ও পুলিশ একসঙ্গে মাঠে নেমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক থেকে অবরোধ সরানোর কাজ করতে পারবে।

মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম বাড়া এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে শ্রমিক ইউনিয়ন, কৃষক সংগঠন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকেরা আন্দোলনে যোগ দিলে তা আরও বড় আকার ধারণ করে। এখন বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি হলো প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের পদত্যাগ।
টানা প্রায় ৫০ দিন ধরে সড়ক অবরোধ চলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে দেশের অর্থনীতিও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
প্রেসিডেন্ট পাজ বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত জরুরি অবস্থা জারি করতে হয়েছে।
মাত্র সাত মাস আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন রদ্রিগো পাজ। তিনি প্রায় দুই দশকের বামপন্থী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশটি তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি কমে যাওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বলিভিয়ার অর্থনীতি বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। এরই মধ্যে জ্বালানি ভর্তুকি কমানোর সরকারি সিদ্ধান্ত জনঅসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভকারীরা শুধু প্রেসিডেন্টের পদত্যাগই নয়, মজুরি বৃদ্ধি এবং বাজারে ডলার ও জ্বালানির সংকট দ্রুত সমাধানেরও দাবি জানিয়েছেন।