
প্রতিনিধি 30 July 2026 , 6:36:42 প্রিন্ট সংস্করণ

নানা নাটকীয়তার পর পুনরায় ইতালির কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন রবার্তো মানচিনি। দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই ক্ষমা চেয়েছেন এই অভিজ্ঞ কোচ।
২০১৮ সালে প্রথমবার ইতালির দায়িত্ব নেন মানচিনি। দেশটিকে ২০২১ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন করেন তিনি। তবে তার অধিনেই ২০২২ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
২০২৩ সালের আগস্টে সবাইকে চমকে দিয়ে পদত্যাগ করেন মানচিনি। এর মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই সৌদি আরব জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন।
ইতালির চাকরি ছেড়ে যাওয়াকে নিজের বড় ভুল বলে স্বীকার করেছেন মানচিনি। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ৬১ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, ‘আমি সত্যিই খুব দুঃখিত। যা ঘটেছিল তা যেন আমার জীবনের সঙ্গীকে হারানোর মতো বেদনাদায়ক ছিল। আমি একটি বড় ভুল করেছি, গত তিন বছরে যা কিছু ঘটেছে তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী এবং জাতীয় দলকে তার স্বাভাবিক মর্যাদায় ফিরিয়ে আনতে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

মানচিনির সৌদি আরবে যোগ দেওয়াকে অনেকেই বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখেছিলেন। সেই সময়কাল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সেটা সম্পূর্ণ আমারই ভুল ছিল। গ্রাভিনার সঙ্গে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, তবে আমি এর সম্পূর্ণ দায় নিচ্ছি।’
এপ্রিলে প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হয় ইতালি। এরপর প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান জেন্নারো গাত্তুসো। এরপর কার্লো আনচেলত্তি ও পেপ গার্দিওলাকে প্রস্তাব দিলেও তারা রাজি হননি ইতালির কোচ হওয়ার।
রাশিয়ার একটি বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক থাকায় আন্দ্রেয়া পিরলোকেও বাদ দেয় ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব ফিরে পান মানচিনি।
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রোমের স্টাদিও অলিম্পিকোতে ইউয়েফা নেশনস লিগে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করবেন মানচিনি। সমর্থকদের কাছ থেকে কেমন অভ্যর্থনা আশা করছেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি কিছু মানুষ আমার বিরোধিতাও করবে। তবে আমি আশা করি দল এমন ভালো পারফর্ম করবে যাতে মানুষ আমাকে ক্ষমা করে দেয়।’
মানচিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি না আমরা খুব খারাপ অবস্থানে আছি। ফরোয়ার্ড এবং উইঙ্গার পজিশনে আমাদের অনেক বিকল্প আছে। তারা এমন তরুণ খেলোয়াড় যারা আরও বিকশিত হতে পারে। আমিই প্রথমে কিনকে সুযোগ দিয়েছিলাম এবং আমি তাকে ভালোভাবে চিনি। এমনকি জানিওলো যখন সিরি আ-তেও খেলেনি, তখন তাকে প্রথম দলে ডেকেছিলাম আমিই।’