
প্রতিনিধি 29 April 2026 , 12:57:24 প্রিন্ট সংস্করণ

প্যারিসের পার্ক দেস প্রিন্সে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগ এক ঐতিহাসিক লড়াইয়ের সাক্ষী হলো। স্বাগতিক পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যকার এই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে মোট ৯টি গোল হয়েছে, যেখানে শেষ পর্যন্ত ৫-৪ ব্যবধানের নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল ইতিহাসে এক লেগের ম্যাচে সর্বোচ্চ ৯ গোলের এই নতুন রেকর্ড ১৯৫৯-৬০ মৌসুমের রেঞ্জার্স বনাম আইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট ম্যাচের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল। শুরুতেই গোল হজম করলেও লুইস এনরিকের দল মাঠে তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে ম্যাচটি নিজেদের করে নেয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের মধ্য দিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের বুঁদ করে রাখে দুই দল। খেলার ১৭ মিনিটে পিএসজি ডিফেন্ডার পাচো বক্সে বায়ার্নের লুইস দিয়াজকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় সফরকারীরা। সফল স্পট কিক থেকে গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে নেন হ্যারি কেইন, যা ছিল চলতি মৌসুমে তাঁর ৫৪তম গোল। তবে পিএসজি দ্রুতই ম্যাচে ফেরে কাভারাৎসখেলিয়ার চমৎকার গোলে। ৩৩ মিনিটে জোয়াও নেভেসের হেডে পিএসজি লিড নিলেও বায়ার্নের মাইকেল ওলিসে দ্রুত সমতা ফেরান। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে ওসমানে দেম্বেলে পেনাল্টি থেকে গোল করলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা ছিল পুরোপুরি পিএসজির দখলে, যেখানে কাভারাৎসখেলিয়া এবং দেম্বেলে বায়ার্ন রক্ষণকে তছনছ করে দেন। ৫৬ মিনিটে আশরাফ হাকিমির দারুণ এক পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড কাভারাৎসখেলিয়া। এর কিছুক্ষণ পরই বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে ওসমানে দেম্বেলে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন। ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে পিএসজি জয়ের সুবাস পেতে শুরু করলেও বাভারিয়ান শিবির শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়।
তিন গোলে পিছিয়ে পড়ার পর জসুয়া কিমিচের ফ্রি-কিক থেকে দাইয়ত উপামেকানোর নিখুঁত হেডে ব্যবধান কমায় বায়ার্ন মিউনিখ। ম্যাচের ৮১ মিনিটে লুইস দিয়াজ একক নৈপুণ্যে আরও একটি গোল করলে ৫-৪ সমীকরণে ম্যাচটি চরম উত্তেজনায় রূপ নেয়। তবে শেষ কয়েক মিনিট পিএসজি তাদের রক্ষণভাগ সফলভাবে আগলে রেখে মূল্যবান জয় নিশ্চিত করে। এক গোলের ব্যবধানে পিএসজি জিতলেও ফিরতি লেগে বায়ার্নের ঘরের মাঠে লড়াইটি আরও কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে এই ম্যাচটি অন্যতম সেরা ও রোমাঞ্চকর লড়াই হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।