
প্রতিনিধি 12 June 2026 , 4:26:40 প্রিন্ট সংস্করণ

২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শুধু মেক্সিকোর জয় বা হুলিয়ান কিনিওনেসের প্রথম গোলের জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে না। মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ জায়গা করে নিল বিশ্বকাপের রেকর্ড বইয়েও। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার কোনো উদ্বোধনী ম্যাচে দেখা গেল তিনটি লাল কার্ড।
এস্তাদিও আসতেকায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। প্রথমার্ধে কিনিওনেসের গোলে এগিয়ে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে রাউল হিমেনেস ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। কিন্তু ম্যাচের শেষ পর্যন্ত আলোচনার বড় অংশ দখল করে নেয় ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইওর দেখানো তিনটি লাল কার্ড।
প্রথম লাল কার্ডটি আসে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। ৪৯ মিনিটে মেক্সিকোর ব্রায়ান গুতিয়েরেস গোলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেফেলো সিথোলে তাকে বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করেন বলে সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। গোলের পরিষ্কার সুযোগ নষ্ট করার অভিযোগে সিথোলেকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান সাম্পাইও।
একজন কমে যাওয়ার পর ম্যাচে ফেরার পথ আরও কঠিন হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার। সেই সুযোগে মেক্সিকো নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ায়। ৬৬ মিনিটে আলভারাদোর ক্রস থেকে হেডে গোল করেন রাউল হিমেনেস। ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোপুরি স্বাগতিকদের হাতে।
দ্বিতীয় লাল কার্ডটি আসে ভিএআর দেখে। আলভারাদোর ওপর থেম্বা জোয়ানের আঘাতের ঘটনা রেফারিকে মনিটরে দেখতে বলেন ভিডিও সহকারী রেফারিরা। রিপ্লে দেখার পর জোয়ানেকেও সরাসরি লাল কার্ড দেখান সাম্পাইও। এতে দক্ষিণ আফ্রিকা নেমে যায় ৯ জনে।

ম্যাচের শেষ দিকে তৃতীয় লাল কার্ড। এবার দক্ষিণ আফ্রিকার নয়, মেক্সিকোর। পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে সেসার মন্তেস প্রতিপক্ষকে ফাউল করেন। গোলের সুযোগ নষ্ট করার অভিযোগে তাকেও সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই তৈরি হয় তিন লাল কার্ডের বিরল ঘটনা।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এমন ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি। সাধারণত টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে দলগুলো সতর্ক থাকে, রেফারিও অনেক সময় ম্যাচের আবহ বুঝে খেলা চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে সাম্পাইও শুরু থেকেই কঠোর ছিলেন। গোলের সুযোগ নষ্ট করা, ভিএআর-পরবর্তী শাস্তি এবং শেষ ভাগের ফাউল—তিন ক্ষেত্রেই তিনি সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে দ্বিধা করেননি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে তিন বা তার বেশি লাল কার্ডের নজির অবশ্য নতুন নয়। ২০০৬ বিশ্বকাপে পর্তুগাল-নেদারল্যান্ডস ম্যাচে চারজন খেলোয়াড় মাঠ ছাড়েন লাল কার্ড দেখে। সেই ম্যাচ ‘ব্যাটল অব নুরেমবার্গ’ নামে বিশ্বকাপ ইতিহাসে কুখ্যাত। একইভাবে ১৯৩৮ বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়া-ব্রাজিল, ১৯৫৪ বিশ্বকাপে হাঙ্গেরি-ব্রাজিল, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা-ডেনমার্ক, ২০০৬ বিশ্বকাপে ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র ও ক্রোয়েশিয়া-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচেও তিনটি করে লাল কার্ড দেখা গেছে।
তবে উদ্বোধনী ম্যাচে তিন লাল কার্ড—এটাই নতুন ইতিহাস। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা-মেক্সিকো উদ্বোধনী ম্যাচ মনে রাখা হয় ভুভুজেলা, সিফিওয়ে তশাবালালার গোল এবং ১-১ ড্রয়ের জন্য। ১৬ বছর পর আবার একই দুই দল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলল, আর এবার স্মৃতিতে জায়গা করে নিল লাল কার্ডের জন্য।
মেক্সিকোর জন্য অবশ্য দিনটি আনন্দেরই। কিনিওনেসের গোল, হিমেনেসের হেড, আসতেকার গর্জন—সব মিলিয়ে স্বাগতিকেরা জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে। কিন্তু সেসার মন্তেসের লাল কার্ড তাদের পরের ম্যাচের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য রাতটি আরও হতাশার। ম্যাচে তারা শুধু হারেনি, দুজন খেলোয়াড়কেও লাল কার্ডে হারিয়েছে। গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচে এই শাস্তির প্রভাব পড়তে পারে।