
প্রতিনিধি 18 June 2026 , 5:28:10 প্রিন্ট সংস্করণ

মানুষের অতিরিক্ত ভালোবাসার কারণেই মরে গেল কিংবদন্তি রবিনহুডের স্মৃতিবিজড়িত প্রাচীন সেই ওক গাছ। ইংল্যান্ডের শেরউড ফরেস্টে অবস্থিত ১,২০০ বছর পুরনো মেজর ওক গাছটিতে এ বছর বসন্তে নতুন পাতা না গজানোয় সেটি মারা গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে রয়্যাল সোসাইটি ফর দ্য প্রোটেকশন অব বার্ডস (আরএসপিবি)।
সংগঠনটির মতে, গত দুই শতাব্দী ধরে নটিংহ্যামে অবস্থিত গাছটি দেখতে আসা অসংখ্য দর্শনার্থীর পদচারণায় চারপাশের মাটি অত্যধিক চাপা পড়ে যায়। ফলে বৃষ্টির পানি শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে বাধার শিকার হয়।
অতীতেও একাধিকবার মেজর ওক গাছটির মারা যাওয়ার গুজব ছড়িয়েছিল। তবে প্রতিবারই আরএসপিবি সেই গুজব খণ্ডন করেছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।


আরএসপিবি’র কর্মকর্তা হলি ড্রেক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এ বছর গাছটিতে পাতা না গজানো আমাদের সবার জন্যই হৃদয়বিদারক।’
কিংবদন্তি অনুসারে, ত্রয়োদশ শতাব্দীর বিখ্যাত দস্যু রবিন হুড নটিংহ্যামের শেরিফের তাড়া খেয়ে এই শেরউড ফরেস্টে লুকাতেন। বলা হয়, মেজর ওক গাছটিই ছিল তার অন্যতম আশ্রয়স্থল।
১৭৯০ সালে ওক গাছ নিয়ে লেখা একটি বইয়ে এই গাছের কথা উল্লেখ করেন মেজর হেইম্যান রুক। সেই সূত্রেই গাছটির নাম হয় ‘মেজর ওক’। তখন থেকেই বিপুলসংখ্যক মানুষ এটি দেখতে শেরউড ফরেস্টে আসতে শুরু করে।
গাছটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, লাখো মানুষের পদচারণা, বিশাল ডালপালাকে টিকিয়ে রাখতে তার ও খুঁটির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের কৃত্রিম সহায়তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট তাপপ্রবাহ ও খরার মতো কারণগুলো এর পতনে ভূমিকা রেখেছে।
গাছ বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এর শিকড় কার্যত শ্বাসরুদ্ধ ও পুষ্টিহীন অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল।
উডল্যান্ড ট্রাস্টের কর্মকর্তা এড পাইন বলেন, ‘মেজর ওকের মতো প্রাচীন গাছগুলো সংরক্ষণ করা উচিত। পৃথিবীর পরিবেশগত স্বাস্থ্যের জন্য এসব গাছকে রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ অধিকাংশ প্রাচীন গাছই মেজর ওকের মতো স্বীকৃতি বা যত্ন না পেয়েই নীরবে হারিয়ে যায়।’
সূত্রঃ স্কাই নিউজ