
প্রতিনিধি 3 May 2026 , 3:29:25 প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে পুরোপুরি রাজনীতিতে মন দিতে চান সাকিব আল হাসান। সেই রাজনৈতিক পথচলায় তার পছন্দের দল বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগই। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, দল বদলের কোনো ইচ্ছা তার নেই।
সম্প্রতি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দেশে ফেরার বিষয়ে কথা বলেছেন সাকিব। আওয়ামী লীগ বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ অবস্থায় থাকলেও এই পরিস্থিতি স্থায়ী হবে না বলেই মনে করেন তিনি।
দলের প্রতি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সাকিব বলেন, ‘আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই। আমি যখন ছোট কোনো দলেও খেলেছি, সেই দলের প্রতি অনুগত ছিলাম। আমার পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই।’
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা অবস্থার প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে চিরদিন নিষিদ্ধ করে রাখা যায় না। তর মতে, রাজনীতি করার অধিকার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার।
সাকিব বলেন, ‘আজীবন কি কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে? এটা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। জোর করে কিছুদিন দমিয়ে রাখা সম্ভব হলেও তাতে দেশের বা রাজনীতির কোনো উন্নতি হয় না।’
রাজনীতিতে প্রতিহিংসার চক্র বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন সাকিব। তার মতে, এক দল অন্য দলের ভুলের পুনরাবৃত্তি করলে রাজনীতির একই সংকট চলতেই থাকবে।

সাকিবের ভাষায়, ‘যদি আমরা আগে ভুল করে থাকি এবং এখন সেটির পুনরাবৃত্তি হয়, তবে এই খেলা চলতেই থাকবে। কাউকে না কাউকে এই ধারা শেষ করতে হবে।’
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সাকিব। তবে সরকার পরিবর্তনের পর তার সংসদীয় মেয়াদ দীর্ঘ হয়নি। বর্তমানে দেশের বাইরে থাকলেও মাগুরার মানুষের সমর্থন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি।
সাকিব বলেন, ‘আমার শতভাগ বিশ্বাস আছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মাগুরার মানুষ আমাকে আবারও ভোট দেবে।’
তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার-পরবর্তী সম্ভাব্য নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার আগ্রহ ছিল তার। তবে পরিস্থিতি ও দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
দেশে ফেরার প্রসঙ্গে সাকিব জানিয়েছেন, তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। তবে তার চাওয়া, দেশে ফিরলে যেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়ার নামে হয়রানির শিকার না হতে হয়।
সাকিব বলেন, ‘পুরোপুরি আশা আছে যে আমি দ্রুতই দেশে ফিরব। আমি আইনের মুখোমুখি হতে চাই, কিন্তু আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
বিশেষ কোনো সুবিধা চান না বলেও জানিয়েছেন তিনি। সাকিবের ভাষায়, ‘আমি বিশেষ কোনো প্রটোকল চাচ্ছি না, শুধু সাধারণ নাগরিক হিসেবে আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন হয়রানি না করার নিশ্চয়তা চাই। এই নিশ্চয়তা কাল দেওয়া হলে আমি পরশুই দেশে ফিরব।’