
প্রতিনিধি 3 May 2026 , 3:26:04 প্রিন্ট সংস্করণ

জনপ্রশাসনে পদায়ন ও বদলিতে তিন নীতির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে সরকার কোনো আপস করবে না। সততা, মেধা ও দক্ষতাই জনপ্রশাসনে পদায়ন ও বদলির নীতি হবে।
রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং দেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে। সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয়।
ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার ও জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের সবকিছু পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে, বেকারত্ব বেড়েছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করছে সরকার।
এর আগে সচিবালয়ের নিজ দপ্তর থেকে সকাল সোয়া ১০টার পর হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সম্মেলনে যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন আগামী ৬ মে সম্মেলন শেষ হবে। সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের মোট ৪৯৮টি প্রস্তাব উত্থাপিত হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির শনিবার বলেন, এবারের সম্মেলন ৩ থেকে ৬ মে পর্যন্ত চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে, যা আগেরবারের তুলনায় এক দিন বেশি।
তিনি বলেন, সম্মেলনে ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার কার্যক্রম জোরদার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও ই-গভর্ন্যান্স, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনা হবে।
সম্মেলন চলাকালে জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে কার্য-অধিবেশনও অনুষ্ঠিত হবে।
অতিরিক্ত সচিব আরও জানান, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৩০টি কার্য-অধিবেশন এবং বাকি চারটি উদ্বোধনী, সৌজন্য সাক্ষাৎ ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনাসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা।
হুমায়ুন কবির বলেন, জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে পাওয়া এক হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৯৮টি কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবে জনসেবা ও স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, জনদুর্ভোগ কমানো, সড়ক ও সেতু নির্মাণ, পর্যটন উন্নয়ন, আইন-বিধিমালা সংশোধন এবং জনস্বার্থ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৪৪টি প্রস্তাব এসেছে।
সম্মেলনের অংশ হিসেবে ৩ মে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে, ৪ মে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের সঙ্গে এবং ৫ মে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সূচি রয়েছে।