
প্রতিনিধি 16 June 2026 , 12:17:06 প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আবারও ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শুধু চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরিচয়েই কোনো কিছু পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। আবার বিশ্বকাপ জিততে হলে সকল প্রক্রিয়া মেনেই জিততে হবে। মাঠে সেরা ফুটবল খেলেই পেতে হবে শিরোপা।
ম্যাচ পূর্ব সাংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমাদের কিছুই নিশ্চিত করে না। আমাদের আবারও একইভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে আমরা কী অর্জন করেছি।’
কোচের সুরে সুর মিলিয়ে আর্জেন্টিনার ৩৮ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডি বলেন, ‘আমরা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি দল আমাদের হারাতে বাড়তি অনুপ্রেরণা পাবে। কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটি আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় উদাহরণ। বিশ্বমঞ্চে যেকোনো দলই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। আমাদের নিজেদের চেনা ছন্দ ধরে রেখে রক্ষণভাগকে এক সুতোয় বেঁধে রাখতে হবে।’

কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনা। ফুটবলের কিংবদন্তি লিওনেল মেসির হাতে প্রথম বিশ্বকাপের মুকুট। চার বছর পর মেসি আবারও একই মঞ্চে। পুনরায় মেসিকে নিয়ে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য আর্জেন্টিনার। এর আগে কেবল ইতালি ও ব্রাজিল টানা দুইবার বিশ্বকাপ জিতেছে। ইতালি ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে এবং ব্রাজিল ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল। এলিট এই ক্লাবে নাম লিখাতে মেসিরা বদ্ধপরিকর।

এজন্য কানসাস সিটি স্টেয়িামে শুরুটা ভালো চান স্কালোনি। মেসি এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ২৬টি ম্যাচ খেলেছেন-যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তার গোল ১৩টি এবং অ্যাসিস্ট ৮টি। যদি তিনি আলজেরিয়ার বিপক্ষে খেলেন, তবে ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার রেকর্ড গড়বেন। পরে এই রেকর্ডে যুক্ত হতে পারেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও।
নিজের দল নিয়ে স্কালোনি বেশ আত্মবিশ্বাসী, ‘আমরা ভালো অবস্থায় আছি, আত্মবিশ্বাসীও। আমরা জানি প্রথম ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি নির্ধারক নয়। আমাদের লক্ষ্য একই মানসিকতা ধরে রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পারফর্ম করা।’
প্রতিপক্ষ আলজেরিয়াকে সমীহ করে আর্জেন্টাইন কোচ বলেছেন, ‘আলজেরিয়া অত্যন্ত গোছানো ও দুর্দান্ত এক দল। বিশেষ করে তাদের আক্রমণভাগে বেশ কয়েকজন দ্রুতগতির ফুটবলার রয়েছে, যারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। তাদের বিপক্ষে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রতিপক্ষ হিসেবে তাদের সমীহ করা উচিত। তারা মাঠে আমাদের কাজটা বেশ কঠিন করে তুলতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম দিন থেকে আমরা একই মানসিকতায় আছি। ‘ভারসাম্যই আমাদের মূল শব্দ। আমরা আমাদের জাতীয় দল ও দেশের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। ফলাফল যাই হোক না কেন, আমরা শান্ত ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি।’
চাপমুক্ত খেলার ওপর জোর দিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘আমরা এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছি কারণ নিজেদের কিছুটা চাপমুক্ত রাখতে পেরেছি। শান্তভাবে খেলাই ছিল সাফল্যের চাবিকাঠি। অবশ্যই চাপ থাকে, সবারই থাকে। তবে যাই ঘটুক না কেন, নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার গর্ব অনুভব করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’