
প্রতিনিধি 30 April 2026 , 6:06:55 প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপের আগে ফিফা কংগ্রেসে অংশ নিতে কানাডায় গিয়েও টরন্টো বিমানবন্দর থেকেই ফিরে গেছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা। কানাডার অভিবাসন কর্মকর্তাদের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ দাবি করে তারা ভ্যাঙ্কুভারের ফিফা সভায় যোগ না দিয়েই কানাডা ছাড়েন।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলে ছিলেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ, সাধারণ সম্পাদক হেদায়াত মোমবেনি এবং উপমহাসচিব হামেদ মোমেনি। তাদের কাছে বৈধ ভিসা ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবু টরন্টোর বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের আচরণে অসন্তোষ জানিয়ে প্রথম সুযোগেই তারা তুরস্কে ফিরে যান।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, বিমানবন্দরে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতি ‘অপমানজনক’ আচরণ করা হয়েছে। ফেডারেশন সভাপতি মেহদি তাজ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সাবেক সদস্য।

কানাডা সরকার অবশ্য ব্যক্তিগত কোনো অভিবাসন মামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, আইআরজিসির কর্মকর্তারা কানাডায় প্রবেশের অযোগ্য এবং তাদের কানাডায় কোনো জায়গা নেই। কানাডা ২০২৪ সালে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
এই ঘটনা বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ ঘিরে ভ্রমণ, ভিসা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতাকে আরও সামনে এনে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হতে যাওয়া ৪৮ দলের বিশ্বকাপ শুরু হতে দুই মাসেরও কম সময় বাকি। এমন সময়ে ইরানি প্রতিনিধিদলের ফিফা কংগ্রেসে অংশ নিতে না পারা নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফা ঘটনার পর ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তাসনিমের দাবি, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সংস্থার সদর দপ্তরে তাদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করবেন। তবে রয়টার্সের মন্তব্য চাওয়ার জবাবে ফিফা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
ইরানি কর্মকর্তারা মঙ্গলবার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন কংগ্রেসেও অংশ নিতে পারেননি। বৃহস্পতিবারের ফিফা কংগ্রেসেও তাদের অনুপস্থিত থাকার কথা।
ভিসা ইস্যুটি শুধু ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও কানাডা সফরে ভিসা জটিলতার কথা বলা হয়েছে। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজৌব রয়টার্সকে বলেছেন, ভিসা অনিশ্চয়তা ফিফা কংগ্রেসের ওপর ছায়া ফেলেছে।
বিশ্বকাপে ইরানকে ঘিরে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা আগে থেকেই ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার কথাও বিভিন্ন পর্যায়ে উঠেছে। তবে ফিফা এখন পর্যন্ত নির্ধারিত সূচি পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।