
প্রতিনিধি 16 June 2026 , 11:34:39 প্রিন্ট সংস্করণ

২০২৬ বিশ্বকাপে ড্রয়ের ধারা যেন অব্যাহতই থাকছে। ‘জি’ গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইরান ও নিউজিল্যান্ড রোমাঞ্চকর ২-২ গোলের ড্র করেছে। লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ছিল নাটকীয়তা, পাল্টা আক্রমণ আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা।
দুইবার পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরায় ইরান, আর নিউজিল্যান্ডকে শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এর আগে একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে বেলজিয়াম ও মিশরের ম্যাচও ১-১ গোলে ড্র করায় ‘জি’ গ্রুপে এখন চার দলই সমান এক পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে। ফলে নকআউট পর্বে ওঠার লড়াই আরও জমে উঠেছে।
ইরানের জন্য এই ম্যাচটি ছিল বিশেষ কিছু। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে উড়েছে তাদের পতাকা, বেজেছে জাতীয় সংগীত। অথচ বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়েই ছিল ঘোর অনিশ্চয়তা। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বিধিনিষেধ ও দুই দেশের চলমান রাজনৈতিক-সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও সব বাধা অতিক্রম করে লস অ্যাঞ্জেলসে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার শিকার হওয়ার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যত যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে ইরান। সেই প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপে দলটির যাত্রা শুরু থেকেই ছিল অনিশ্চয়তায় ঘেরা। যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেললেও ইরানকে ক্যাম্প করতে হয়েছে মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিহুয়ানায়।
ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের অভিযোগ, দলের সব কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। এমনকি সমর্থকদের জন্য বরাদ্দ টিকিটও বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ ব্যবস্থায় মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে ম্যাচ খেলেই আবার ফিরে যেতে হবে দলটিকে। যুক্তরাষ্ট্রে একটানা ২৪ ঘণ্টার বেশি অবস্থানের অনুমতিও নেই তাদের।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে আয়োজক দেশ ও অংশগ্রহণকারী একটি দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

মাঠের বাইরে যখন এতোকিছু চলছিল তখন মাঠের ভেতরে শক্ত মানসিকতার না হলে বিপদ। ইরান সেই ছাপটাই দেখাল বারবার। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ক্রিস উডের চমৎকার হোল্ড-আপ প্লে থেকে তৈরি হওয়া ভলিতে গোল করেন এলাইজা জাস্ট। চোখ ধাঁধানো শটে চমকে যান সকলেই। শুরুতে গোল হজমের পর আক্রমণ বাড়িয়ে দেয় ইরান। সুযোগ সৃষ্টিও হতে থাকে। কিন্তু লক্ষ্যভেদ হচ্ছিল না। মাঝে একটি শট বারপোস্টে লেগে ফিরে আসলে ভাগ্যকে দুষতে থাকে তারা।
তবে ইরান সব সামলে নেয় ৩২ মিনিটে। মিডফিল্ডার সামান গুডেস সামনে থাকা শাহরিয়ার মোগানলুর উদ্দেশ্যে একটি পাস বাড়ানোর চেষ্টা করেন। মোগানলু মাটিতে পড়ে গেলেও বলটি কাছেই থাকা রামিন রেজাইনের কাছে পৌঁছে যায়। সুযোগ বুঝে রেজাইন দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে ডান পায়ের শটে বল জড়িয়ে দেন জালে।
এই গোলের পর ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা ফিরে আসে। বিরতির ঠিক আগে তারা লিডও নিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। স্পটকিক থেকে পাওয়া বলে হেড দেন নেমাতি। কিন্তু লাইন্সম্যানের চোখ এড়ায়নি।
বিরতির পর নিউজিল্যান্ড আবার লিড নেয়। দুর্দান্ত এক আক্রমণে দলকে ৫৫ মিনিটে এগিয়ে নেন জাস্ট। গোলটির শুরুটা করেন অধিনায়ক ক্রিস উড। ডান প্রান্ত দিয়ে দৌড়ে জাস্ট্রের উদ্দেশে থ্রু পাস দেন উড। বল পেয়ে বক্সের ডান দিক দিয়ে এগিয়ে যান জাস্ট এবং সামনে এগিয়ে আসা ইরান গোলরক্ষক আলীরেজাকে পরাস্ত করতে চমৎকার দক্ষতা দেখান।
গোল শোধে মরিয়া ইরান ৬৪ মিনিটে ম্যাচে দ্বিতীয়বার সমতা ফেরায়। ডান প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত এক ক্রস ভাসিয়ে দেন রামিন। সেই বলকে নিখুঁত হেডে জালে জড়িয়ে দেন মোহাম্মেদ মাহেবি। এই গোলের পর গ্যালারিতে থাকা ইরানি সমর্থকদের উচ্ছ্বাস আবারও ফিরে আসে। পুরো দ্বিতীয়ার্ধে যেভাবে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিল ইরান, তাতে এই গোল তাদের প্রাপ্যই ছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তীব্র রোমাঞ্চকর ও হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচের ফয়সালা হয়েছে ড্রয়ে।