
প্রতিনিধি 12 June 2026 , 6:31:12 প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
শুক্রবার (১২ জুন) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
গভর্নর বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্মিলিত ৫টি ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার গুজব ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কিন্তু এটি সঠিক নয়। এ বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার কিছু দিন পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন। এরপর একজনকে এমডি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে আমরা বসে থাকিনি। সঙ্গে সঙ্গে এমডি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ২৫ মার্চ। আবেদন যাচাই-বাছাই করতে কিছুটা সময় লেগেছে। পরে একজন এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়, যার প্রক্রিয়া শেষ হতে মে মাস চলে যায়।
মোস্তাকুর রহমান বলেন, ব্যাংকগুলোর বোর্ডের সর্বশেষ সভা মঙ্গলবার (৯ জুন) অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাৎ সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। খুব শিগ্গিরই আমানতকারীদের আমানত ফেরতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ সময় নিজের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপি হওয়ার যে অভিযোগ সেটা নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, আমি ইনভলভ ছিলাম একটা গ্রিন ফ্যাক্টরি লিগ সার্টিফিকেট (অর্থাৎ ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার আগে)। এখানে দুই ধরনের বিষয় আছে। একটা হচ্ছে ওভারভিউ হয়ে বিলম্ব হওয়া, সেটা এক জিনিস। আরেকটা হচ্ছে ঋণ খেলাপি, বিবিএল হয়ে যায়। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি একদিনের জন্য বন্ধ হয় নাই। একদিনের জন্য এক্সপোর্ট বন্ধ হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরির এক মাসের জন্য বেতন দিতে দেরি হয় নাই। এমনকি আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি ব্যাংকের কাছে এক টাকা ঋণ মওকুফ চায় নাই।
তিনি বলেন, শুধু যেটা হয়েছে, সেই কারখানায় শুরুতে অর্থায়ন করেছিল এফএসএসপি প্রজেক্টের অধীনে। যেখানে সুদের হার ছিল ৪ শতাংশ। ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরে ব্যাংক জানায় যে, ওই ফান্ডটা শেষ হয়ে গেছে। আপনাদের এখন ৯ থেকে ১১ শতাংশ সুদ দিতে হবে। স্বাভাবিকভাবে রিপেমেন্ট আগের প্রজেকশন অনুসারে হয় নাই। সেটা বিলন্ব হয়েছে এবং সেখানে কোভিড (করোনাভাইরাস) ছিল। এ ছাড়া অন্যান্য সমস্যাও ছিল।
তিনি আরও বলেন, এটা নিশ্চিত থাকেন যে, আমরা কখনো এক পয়সা, এক টাকা ঋণ মওকুফ চায়নি। সেই প্রতিষ্ঠানের ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকার ওপরে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধও করে দিয়েছে। সুতরাং বলতে-বলতে একটা মিথ্যা কথাকে অনেক সময় সত্য করে ফেলি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রমুখ।