
প্রতিনিধি 22 May 2026 , 6:50:50 প্রিন্ট সংস্করণ

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচ বছর আগের একটি টুইটকে কেন্দ্র করে বিপাকে পড়েছেন টালিউড ইন্ডাস্ট্রির আলোচিত অভিনেতা পরমব্রত চ্যাটার্জি ও অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি। তাদের বিরুদ্ধে এরইমধ্যে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে কলকাতার গড়িয়াহাট থানায়।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২১ মে) দায়ের করা অভিযোগ বলা হয়েছে, ২০২১ সালের মে মাসের সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্টের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়টি। যেদিন ওপার বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছিল।
অভিযোগে সেদিন বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে অভিনেতা পরমব্রতের করা একটি টুইটকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আজকের দিনটিকে বিশ্ব ‘রগড়ানি’ ধোলাই দিবস ঘোষণা করা হোক। এর মন্তব্যের ঘরে একটি ইমোজিসহ অভিনেত্রী স্বস্তিকা লিখেছিলেন, হা হা, হোক হোক।
অভিযোগকারীর দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের করা এ ধরনের মন্তব্যগুলো আপাতদৃষ্টিতে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে ব্যাপক সহিংসতাকে প্ররোচিত, উৎসাহিত ও উস্কানিমূলক ছিল, কেননা, তখন বিজেপি কর্মীদের ওপর আগে থেকেই হামলার খবর সামনে আসা শুরু করেছিল।

অভিযোগকারী বলেন, পরমব্রত ও স্বস্তিকার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৭ ধারার অধীনে ইতোমধ্যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাদের মন্তব্য বিজেপি কর্মীদের হত্যাকাণ্ড, দলীয় নারী কর্মীদের ওপর ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানি এবং ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের দ্বারা সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা সহিংসতাকে উসকে দিয়েছিল।
অভিযোগে দুই তারকার সোশ্যাল মিডিয়ার আলাপচারিতার সঙ্গে পরবর্তী বাস্তব সহিংসতার একটি সংযোগও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, টুইটটি করার প্রায় এক ঘণ্টা পর বেলেঘাটার বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে হত্যা করা হয়। এর মামলায় আসামিদের ইতোমধ্যে সাজা দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২১ সালের ২ মে বিকেল থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত ও ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে হত্যাকাণ্ড, হামলা, যৌন সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের নজরে আসে।
পশ্চিমঙ্গে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ঘটা এই সহিংসতা একটি বড় রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি করে। ফলে কয়েকটি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর কয়েক জেলায় মানুষের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভিটেমাটি চ্যুত করার অভিযোগ ওঠার পর পদক্ষেপগুলো নেয়া হয়েছিল।
নির্বাচনকালীন এপ্রিলে সবচেয়ে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে ১২৩টি সহিংস ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে মে মাসে ৮৮টি সহিংসতার ঘটনাং এবং ৩১ জনের মৃত্যুর খবর নথিভুক্ত হয়।
সূত্রঃ ইন্ডিয়া টুড