
প্রতিনিধি 14 July 2026 , 12:07:07 প্রিন্ট সংস্করণ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় সেমিফাইনালে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাতে ডালাস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। টুর্নামেন্টের অন্যতম দুই ফেবারিটের এই লড়াই ঘিরে ফুটবল বিশ্বে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ম্যাচে ফ্রান্সের সামান্য এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অপটার ২৫ হাজার সিমুলেশনের ফলাফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৪৩.৯ শতাংশ। স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ২৯ শতাংশ, আর ম্যাচটি ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৭.১ শতাংশ। তবে সবকিছু কাটিয়ে ফ্রান্সের ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৫৭.১ শতাংশ। পুরো বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনাও ফ্রান্সের সবচেয়ে বেশি (৩৪.৬ শতাংশ), যেখানে স্পেনের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২৩.৮ শতাংশ।
ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম এই ম্যাচের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ২৬তম ম্যাচে দলের দায়িত্ব পালন করবেন। এর ফলে তিনি জার্মানির কিংবদন্তি কোচ হেলমুট শ্যোনকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ পরিচালনার রেকর্ড গড়বেন। অন্যদিকে, স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে টানা ১৩টি ম্যাচে অপরাজিত (১২ জয়, ১ ড্র), যা এই দুই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যেকোনো কোচের মধ্যে সর্বোচ্চ।

কোয়ার্টার-ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা ষষ্ঠ জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। এবার লক্ষ্য টানা সপ্তম জয়, যা এর আগে ইউরোপের কোনো দল হিসেবে কেবল ইতালিই (১৯৩৪ ও ১৯৩৮ বিশ্বকাপে) করতে পেরেছিল।
এটি ফ্রান্সের অষ্টম বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। কেবল জার্মানি (১২ বার) তাদের চেয়ে বেশি সেমিফাইনাল খেলেছে। ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১৮ ও ২০২২; সর্বশেষ চারটি সেমিফাইনালেই জয় পেয়েছে ফরাসিরা। সর্বশেষ তিনটি সেমিফাইনালে তারা কোনো গোলও হজম করেনি।

এছাড়া, জার্মানি (১৯৮২, ১৯৮৬ ও ১৯৯০) এবং ব্রাজিলের (১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২) পর টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়ার সুযোগও রয়েছে দেশমের দলের সামনে।
কিলিয়ান এমবাপ্পে এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। কোয়ার্টার-ফাইনালে গোড়ালির চোট নিয়ে মাঠ ছাড়লেও সেমিফাইনালে তার খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে আট গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপ্পের মোট গোল এখন ১২টি, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে একটি পরিসংখ্যান তার জন্য কিছুটা অস্বস্তির; আগের দুই বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে তিনি গোল করতে পারেননি।
শুধু গোল করাই নয়, সতীর্থদের সুযোগ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন এমবাপ্পে। ওসমান দেম্বেলের সঙ্গে তার বোঝাপড়া অসাধারণ। দুজন মিলে একে অপরের জন্য ১৯টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা জুটিগুলোর একটি।

এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর একটি। কোয়ার্টার-ফাইনালে বেলজিয়ামের চার্লস ডি কেটেলারের হেড থেকে পাওয়া গোলটিই টুর্নামেন্টে তাদের বিপক্ষে একমাত্র গোল।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর পথে থাকলেও বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে ম্যাচজয়ী গোল করেন মিকেল মেরিনো। এর আগে শেষ ষোলোতে পর্তুগালের বিপক্ষেও বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নকআউট পর্বে বদলি হিসেবে নেমে টানা দুটি ম্যাচে জয়সূচক গোল করা প্রথম ফুটবলার এখন মেরিনো।
মুখোমুখি পরিসংখ্যান
বিশ্বকাপে এটি হবে ফ্রান্স ও স্পেনের মাত্র দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। ২০০৬ সালের শেষ ষোলোতে তাদের একমাত্র বিশ্বকাপ লড়াইয়ে ৩-১ গোলে জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বশেষ ১০ দেখায় স্পেনের রেকর্ড অনেক ভালো। তারা সাতটি ম্যাচ জিতেছে, একটি ড্র করেছে এবং মাত্র দুটি ম্যাচে হেরেছে। সর্বশেষ দুই দেখাতেই জয় স্পেনের।
ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ২-১ ব্যবধানে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল স্পেন। এরপর ২০২৫ সালের নেশন্স লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচেও ৫-৪ ব্যবধানে জয় পায় লা রোহা।