
প্রতিনিধি 13 June 2026 , 10:03:21 প্রিন্ট সংস্করণ

ঘরের মাঠে দেখিয়ে দিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ৪-১ গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করলো তারা। যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের নায়ক ফোলারিন বালোগান। প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করেন মোনাকোর এই ফরোয়ার্ড। তার আগে ক্রিস্টিয়ান পুলিসিকের দারুণ ড্রিবল ও নিচু ক্রস থেকে দামিয়ান বোবাদিলার আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। প্যারাগুয়ের হয়ে দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান কমান মাউরিসিও। আর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল করেন যুক্তরাষ্ট্রের জিওভান্নি রেইনা। এ নাহলে বিশ্বকাপ! উত্তর আমেরিকার দল গুড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলকে। গতকাল ক্যাপ্টেনস টিভির ম্যাচ ভবিষ্যদ্বানী ছিল জিতবে যুক্তরাষ্ট্র। হয়েছে সেটাই। ইতিহাস গড়লো স্বাগতিকরা।
সোফাই স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল যুক্তরাষ্ট্র। পুলিসিক বাঁ দিক দিয়ে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢোকেন। তাঁর নিচু ক্রস প্যারাগুয়ে রক্ষণকে অস্বস্তিতে ফেলে। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বোবাদিয়া সেটি নিজেদের জালে পাঠিয়ে দেন। মাত্র ৭ মিনিটেই গোল পেয়ে যায় স্বাগতিকেরা।
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুত গোলের তালিকায় সবার ওপরে ক্লিন্ট ডেম্পসি। ২০১৪ বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে মাত্র ২৯ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন তিনি। ২০০২ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে জন ও’ব্রায়েন গোল করেছিলেন চতুর্থ মিনিটে। সেই তালিকায় এবার জায়গা করে নিল প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৭ মিনিটের আত্মঘাতী গোলও।

প্রথম গোলটি আত্মঘাতী হলেও এর কৃতিত্ব অনেকটাই পুলিসিকের। তাঁর গতি, ড্রিবল ও সিদ্ধান্তই প্যারাগুয়ের রক্ষণকে ভেঙে দেয়। ম্যাচের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ কতটা ধারালো হতে পারে, সেটির নমুনা দেন মিলান ফরোয়ার্ড।
এরপর আলো নিজের দিকে টেনে নেন ফোলারিন বালোগান। প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে দেন মোনাকোর এই স্ট্রাইকার। প্রথম গোলটি আসে ৩১ মিনিটে। চলতি বলে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ বাঁ পায়ের শটে আরেকটি গোল করেন বালোগান।
বালোগানের এই জোড়া গোলও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঐতিহাসিক। বিশ্বকাপে ১৯৩০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো খেলোয়াড়ের প্রথম একের অধিক গোলের পারফরম্যান্স এটি। ১৯৩০ সালে বার্ট প্যাটেনডে প্যারাগুয়ের বিপক্ষেই ইতিহাস গড়েছিলেন। ৯৬ বছর পর আবার প্যারাগুয়ের বিপক্ষেই যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপ মঞ্চে জোড়া গোল করলেন।
অদ্ভুত মিল এখানেই। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ ছিল প্যারাগুয়ে, আর ২০২৬ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ শুরুর রাতেও সেই প্যারাগুয়েকেই পেল যুক্তরাষ্ট্র। এবারও ম্যাচের গল্পে থাকল দ্রুত গোল, বড় প্রথমার্ধ এবং আমেরিকান আক্রমণের দাপট।
প্যারাগুয়ে দ্বিতীয়ার্ধে মাউরিসিওর গোলে ব্যবধান কমালেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আর নিতে পারেনি। শেষ দিকে জিও রেইনা গোল করে যুক্তরাষ্ট্রের জয় আরও বড় করেন। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে স্বাগতিকেরা।