• খেলা

    মেসির আর্জেন্টিনা নাকি নেইমারদের ব্রাজিল, ৪ বিভাগের কোথায় কে এগিয়ে?

      প্রতিনিধি 10 June 2026 , 2:55:15 প্রিন্ট সংস্করণ

    ছবি: সংগৃহীত
    ছবি: সংগৃহীত
    বিজ্ঞাপন
    Main Banner Ads For Captains TV

    আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা, তারপরই ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত বিশ্বকাপের অপেক্ষার অবসান। তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে পর্দা উঠবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসরের। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত অংশ নেয়া দলগুলো। সম্ভাব্য শিরোপাপ্রত্যাশীদের নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রে বরাবরের মতোই রয়েছে ল্যাটিনের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল।

    একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, যাদের শক্তি দলগত সমন্বয়, স্থিতিশীলতা ও বড় মঞ্চে প্রমাণিত মানসিক দৃঢ়তা। অন্যদিকে ব্রাজিল, যাদের স্কোয়াডে তারকার ছড়াছড়ি, বেঞ্চও সমৃদ্ধ, আর ব্যক্তিগত সামর্থ্যের বিচারে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল। গোলপোস্ট থেকে আক্রমণভাগ কোন জায়গায় কার শ্রেষ্ঠত্ব, তা নিয়েই এখন ফুটবল বিশ্বে চলছে তর্ক-বিতর্ক।

    গোলরক্ষকের জায়গায় দু’দলই যেন সমান শক্তিশালী। আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এবং ব্রাজিলের অ্যালিসন বেকার, দুজনই আধুনিক ফুটবলের সেরা গোলরক্ষকদের কাতারে জায়গা করে নিয়েছেন। তবে বিশ্বকাপের মতো নকআউট টুর্নামেন্টে বড় মঞ্চে নিজেকে বারবার প্রমাণ করেছেন মার্টিনেজ।

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে তার নৈপুণ্য আর্জেন্টিনাকে এনে দেয় বহু প্রতীক্ষিত শিরোপা। শুধু টাইব্রেকার নয়, ফাইনালের শেষ মুহূর্তে রানদাল কোলো মুয়ানির শট ঠেকিয়ে তিনি নিশ্চিত গোলও বাঁচিয়েছিলেন। চাপের মুহূর্তে মানসিক দৃঢ়তা এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তাকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।

    অ্যালিসন অবশ্য ভিন্ন ধরনের গোলরক্ষক। শট ঠেকানো, ক্রস নিয়ন্ত্রণ, পা দিয়ে খেলা তৈরি করা কিংবা সুইপার-কিপার হিসেবে রক্ষণকে সহায়তা করা সব দিক থেকেই তিনি অত্যন্ত পরিপূর্ণ। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে বিশ্বের সেরাদের একজন বলেও বিবেচিত হন। তবে পেনাল্টি শুটআউটে তার রেকর্ড খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। ফলে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা ও বড় ম্যাচের প্রভাব বিবেচনায় গোলরক্ষকের লড়াইয়ে সামান্য এগিয়ে থাকবেন মার্টিনেজ।

    রক্ষণভাগে চিত্রটা ভিন্ন। ব্যক্তিগত সামর্থ্য ও বিকল্পের গভীরতায় ব্রাজিলের ডিফেন্স অনেক বেশি সমৃদ্ধ। মারকুইনহোস, ব্রেমার ও গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসের মতো সেন্টারব্যাকদের উপস্থিতি যেকোনো দলের জন্য ঈর্ষণীয়। মারকুইনহোস নেতৃত্ব দিতে পারেন, বল এগিয়ে নিতে পারেন, আবার প্রয়োজনে হাই প্রেসিং ব্যবস্থাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ব্রেমার শারীরিক লড়াই ও বক্স রক্ষায় নির্ভরযোগ্য। আর গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস সাম্প্রতিক সময়ে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম কার্যকর ডিফেন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

    তবে ব্রাজিলের উদ্বেগের জায়গা ফুলব্যাক পজিশন। বিশেষ করে সেন্টারব্যাকদের তুলনায় এই অংশে গভীরতা কম। চোটের কারণে সম্ভাব্য বিকল্প হারানোও তাদের জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে।

    বিজ্ঞাপন

    অন্যদিকে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের বোঝাপড়া ও অভিজ্ঞতা। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং নিকোলাস ওতামেন্দি বড় মঞ্চে কীভাবে চাপ সামলাতে হয়, তা ভালো করেই জানেন। রোমেরোর আগ্রাসী ডিফেন্ডিং এবং ওতামেন্দির অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিন ধরেই স্কালোনির দলের অন্যতম ভরসা। লিসান্দ্রো মার্টিনেজও এই বিভাগে বৈচিত্র্য যোগ করবেন।

    তবে আর্জেন্টিনার সমস্যাও কম নয়। কার্যকর বিকল্পের ঘাটতি রয়েছে। ৩৮ বছর বয়সী ওতামেন্দি কিংবা চোট কাটিয়ে ফেরা রোমেরো ছন্দে না থাকলে রক্ষণে ভোগান্তিতে পড়তে পারে দলটি। সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত গুণগত মান এবং স্কোয়াডের গভীরতায় রক্ষণভাগে ব্রাজিলকে খানিকটা এগিয়ে রাখতেই হবে।

    মাঝমাঠেই সম্ভবত দু’দলের পার্থক্য সবচেয়ে স্পষ্ট। আর্জেন্টিনার শক্তি তাদের সংগঠিত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরস্পর পরিপূরক মিডফিল্ড। এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং রদ্রিগো দি পলত্রয়ী গত কয়েক বছরে নিজেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে।

    এনজো খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেন, চাপের মধ্যে পাস বের করে আনেন এবং আক্রমণ গড়ে তোলেন। ম্যাক অ্যালিস্টার সৃষ্টিশীলতার পাশাপাশি ডিফেন্সিভ ট্রানজিশনেও সমান কার্যকর। আর দি পল যেন এই মিডফিল্ডের ইঞ্জিন। প্রতিপক্ষের প্লেমেকারকে নিষ্ক্রিয় করা, প্রেসিং এবং সতীর্থদের আড়াল করে কাজ করে যাওয়া, এসব ভূমিকায় তার জুড়ি মেলা ভার।

    ব্রাজিলের মিডফিল্ডে বড় ভরসা ব্রুনো গুইমারেস। বল এগিয়ে নেয়া, লং পাস এবং চাপ সামাল দেয়ার দক্ষতা তার বড় সম্পদ। অভিজ্ঞ ক্যাসেমিরো এখনও রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেন, যদিও বয়সের ছাপ স্পষ্ট। লুকাস পাকেতা সৃষ্টিশীলতার ঝলক দেখাতে পারেন, তবে ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ফলে ব্যক্তিগত প্রতিভা থাকলেও দলগত নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয়ের বিচারে মাঝমাঠে আর্জেন্টিনা পরিষ্কারভাবে এগিয়ে।

    আক্রমণভাগে এসে আবার পাল্টে যায় হিসাব। ব্রাজিলের সামনে রয়েছে বিস্ফোরক সম্ভাবনার এক বাহিনী। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা, নেইমার, এনদ্রিক, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি এবং ম্যাথিউস কুনহার উপস্থিতি তাদের আক্রমণকে দিয়েছে গভীরতা ও বৈচিত্র্য।

    ভিনিসিয়ুসের গতি ও ড্রিবলিং যেকোনো রক্ষণকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। রাফিনহা আক্রমণ ও প্রেসিং দুই ক্ষেত্রেই কার্যকর। পূর্ণ ফিট নেইমার থাকলে তিনি প্লেমেকার হিসেবে দলের আক্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবেন। বেঞ্চ থেকে নেমে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়ার সামর্থ্যও রয়েছে এনদ্রিক কিংবা মার্তিনেল্লির।

    আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ তুলনামূলকভাবে কম গভীর হলেও কার্যকারিতায় অনন্য। এই আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু লিওনেল মেসি। গোল করা, সুযোগ তৈরি করা কিংবা খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ সব ক্ষেত্রেই তিনি এখনও দলের প্রধান ভরসা। তবে অতিরিক্ত মেসিনির্ভরতা আর্জেন্টিনার জন্য ঝুঁকির কারণও হতে পারে।

    হুলিয়ান আলভারেজ চাপের মধ্যে দুর্দান্ত পারফর্ম করতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে নিচে নেমে খেলা তৈরি করতেও সক্ষম। লাওতারো মার্টিনেজ বক্সের ভেতরে সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতায় অন্যতম সেরা। তবু বেঞ্চের গভীরতা এবং বিকল্প পরিকল্পনার বিচারে আক্রমণভাগে ব্রাজিলকে সামান্য এগিয়ে রাখতেই হবে।

    সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের আগে শক্তির বিচারে দু’দলের চিত্র বেশ স্পষ্ট। গোলরক্ষকের জায়গায় এগিয়ে আর্জেন্টিনা, রক্ষণে ব্রাজিলের শ্রেষ্ঠত্ব, মাঝমাঠে আধিপত্য আর্জেন্টিনার, আর আক্রমণভাগে সামান্য বাড়তি সুবিধা ব্রাজিলের। শেষ পর্যন্ত ট্রফি কার হাতে উঠবে, তার উত্তর দেবে মাঠের লড়াই।

    আরও খবর

    Sponsered content

    বিজ্ঞাপন
    সর্বশেষ সংবাদ
    2:55 PM মেসির আর্জেন্টিনা নাকি নেইমারদের ব্রাজিল, ৪ বিভাগের কোথায় কে এগিয়ে? 1:39 PM দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফিরতে চান এনা 1:00 PM ভবিষ্যতের শান্তিরক্ষা মিশন হবে আধুনিক ও প্রযুক্তি-নির্ভর: প্রধানমন্ত্রী 12:28 PM খালাস পেলেন ক্রিকেটার নাসির-তামিমা দম্পতি 11:52 AM সাকিবের পর কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে হাসান 11:44 AM মাঠে ফিরেই মেসির গোল, বড় ব্যবধানে জয় আর্জেন্টিনার 6:41 PM বিসিবির নতুন কমিটিতে কে কোন দায়িত্ব পেলেন 6:34 PM বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমতে ও বাড়তে পারে 5:10 PM “এক্স নয়, ভরসা শুধু টাইগারদের ওপর!” 4:44 PM পাহাড়ের মেয়ে রিতুপর্ণার স্বপ্নপূরণে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ