
প্রতিনিধি 5 April 2026 , 6:55:54 প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতে মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধর ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। ঐতিহাসিকভাবে প্রভাবশালী এ বংশের উত্তরসূরিরা এবার নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণে আদালতে যাচ্ছেন।
বংশধরদের দাবি, তাদের ভারতীয় পরিচয় নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠার সুযোগ নেই। তারা উল্লেখ করেন, অতীতে তাদের বংশধরদের একজন দেশভাগের সময় পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং ভারতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু এত বছর পর ভারত সরকারের রোষানলে পড়ে তারা কষ্ট ভোগ করছেন।
লালবাগের ঐতিহাসিক কেল্লা নিজামাত এলাকার কাছে বসবাসকারী এই পরিবার জানায়, একসময় তাদের পূর্বপুরুষরা বিচার করতেন, আর আজ তাদেরই নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও ট্রাইব্যুনালে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। তবে পরিবারটির আশঙ্কা, প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হলে আসন্ন নির্বাচনে তারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। আগামী ২৩ এপ্রিল মুর্শিদাবাদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আর. অর্জুন জানান, নবাব পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বড় আকারে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা হবে।
এই পরিবারটি একসময় বাংলা, বিহার ও ওড়িশ্যা অঞ্চল শাসন করতো। ১৭৫৭ সালের পলাশী যুদ্ধের পর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সমর্থনে মীর জাফর নবাব হন। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার লালবাগ এলাকার একটি ভোটকেন্দ্রের তালিকায় ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই পরিবারের সদস্যদের নাম ছিল। তবে সাম্প্রতিক বিশেষ সংশোধনের পর তাদের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ হিসেবে চিহ্নিত করে পরবর্তীতে মুছে ফেলা হয়।
‘ছোটে নবাব’ নামে পরিচিত ৮২ বছর বয়সী সৈয়দ রেজা আলি মির্জা জানান, তার পরিবারের ৯ জন সদস্যসহ শতাধিক আত্মীয়ের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তার ছেলে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ ফাহিম মির্জা বলেন, তাদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও ছিল, হঠাৎ করে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে তা তারা বুঝতে পারছেন না। তবে তারা হাল ছাড়বেন না। নাগরিকত্ব প্রমাণে আদালতে যাবেন তারা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়ার