
প্রতিনিধি 7 March 2026 , 7:31:19 প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী দেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি যাকাত আদায় হয়। লক্ষ্যভিত্তিক যাকাত ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব হবে।
শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়, আলেম-ওলামা, মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী। ইফতারের আগে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ঐতিহ্য অনুযায়ী অতীতের প্রায় প্রতিটি রমজান মাসেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হতো। আলেম-ওলামা, মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে সাধারণত রমজানের শুরুতেই এই আয়োজন করা হলেও দেশের বর্তমান বাস্তবতায় এবার কিছুটা দেরিতে আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই আয়োজনে এতিম শিশুরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অতিথি। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এতিমদের অধিকার আদায়ে মুমিন মুসলমানদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এতিমদের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যেই এই ইফতার আয়োজনের প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশে যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে তা বণ্টন না হওয়ায় দারিদ্র্য বিমোচনে এর সম্ভাব্য ভূমিকা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। লক্ষ্যভিত্তিক যাকাত ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে।
তারেক রহমান বলেন, পরিকল্পিতভাবে দরিদ্র পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে যাকাত বিতরণ করা গেলে তা দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, ইসলামি চিন্তাবিদ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বিদ্যমান যাকাত বোর্ডকে আরও কার্যকরভাবে পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে সীমিত পরিসরে ইফতার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল ও আজ (শুক্রবার-শনিবার) এই দুই দিন মিলিয়ে মোট দুটি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ ছাড়াও রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রবণতার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, পবিত্র রমজান ত্যাগ, সংযম ও মানবিকতার মাস। অথচ এ সময় কেউ কেউ অসাধু উপায়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে দেন। তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি মানুষের দুর্ভোগের কারণ না হওয়ার আহ্বান জানান।