
প্রতিনিধি 30 June 2026 , 11:40:34 প্রিন্ট সংস্করণ

ডালাসের স্টেডিয়ামে আজ সাক্ষী হলো বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪–৩ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে। এর আগে অতিরিক্ত সময়সহ ১২০ মিনিটের লড়াই ১–১ সমতায় শেষ হয়েছিল।
টাইব্রেকারে জার্মান ফুটবলারদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্যারাগুয়ের ২৬ বছর বয়সী গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। স্নায়ুচাপের এই লড়াইয়ে জার্মানির তিনটি শট নিষ্ক্রিয় করে তিনি হয়ে উঠেছেন ম্যাচের আসল নায়ক। কাই হাভার্টজ ও নিক ভল্টেমাডের শট রুখে দেন তিনি, আর জোনাথান তাহ শট নেন লক্ষ্যের বাইরে। প্যারাগুয়ের এমন অবিশ্বাস্য বীরত্বে ডালাসের গ্যালারিতে উপস্থিত ভক্তরা মেতে ওঠেন বাঁধনহারা উল্লাসে।
২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপেও জার্মানির বিদায় যেন তাদের সাম্প্রতিক হতাশারই ধারাবাহিকতা। ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর, এবার নকআউট পর্বে এসেও রাউন্ড অব ৩২ বাধা টপকাতে পারল না জার্মানরা। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এমন করুণ বিদায় বিশ্বফুটবলকে আবারো প্রশ্নবিদ্ধ করল তাদের বর্তমান রণকৌশল নিয়ে।

ডালাসের স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই প্যারাগুয়ে তাদের রক্ষণাত্মক কৌশলে জার্মানিকে চাপে রাখার চেষ্টা করে। প্রতি আক্রমণে সুযোগ পেয়ে ম্যাচের ৪২ মিনিট মাতিয়াস গালারজার নিখুঁত ক্রসে দারুণ এক হেডে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন হুলিও এনসিসো। সেই লিড নিয়ে প্যারাগুয়ে অনেকটা সময় জার্মানিকে আটকে রাখে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া হয়ে ওঠা জার্মানি আক্রমণের ধার বাড়ায়। অবশেষে ৫৪ মিনিটে প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে কাই হাভার্টজ সমতাসূচক গোলটি করেন। ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান তিনি। এরপর নির্ধারিত সময়ের বাকি অংশে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও গোলের দেখা পায়নি কেউই।
অতিরিক্ত ৩০ মিনিট ছিল মূলত প্যারাগুয়ের ডিফেন্স বনাম জার্মানির অ্যাটাকের লড়াই। এর মাঝেই কর্নার থেকে হেডে প্যারাগুয়ের জালে বল জড়িয়েছিলেন জার্মান ডিফেন্ডার জোনাথন টাহ। কিন্তু ভিএআরের সহায়তায় রেফারি গোলটি বাতিল করেন, কারণ বক্সের ভেতর গোলকিপার গিলের ওপর ফাউল করেছিলেন ভালদেমার আন্তন। অতিরিক্ত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে আন্তনের আরেকটি হেডও দুর্দান্তভাবে সেভ করেন গিল। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের লটারিতেই নির্ধারিত হয় জার্মানির ট্র্যাজিক বিদায় এবং প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক রূপকথা।
শক্তিশালী জার্মানিকে হারিয়ে প্যারাগুয়ে প্রমাণ করে দিল, পরিসংখ্যান বা অতীত ইতিহাস ছাপিয়ে মাঠের ৯০ (বা ১২০) মিনিটই সবকিছুর শেষ কথা। এই ঐতিহাসিক জয়ের পর প্যারাগুয়ের পরবর্তী মিশন এখন কোয়ার্টার ফাইনাল।