
প্রতিনিধি 2 May 2026 , 1:55:53 প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস। আজ থেকে শুরু হচ্ছে সারাদেশে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণের ক্রীড়া ভিত্তিক নতুন এই উদ্যোগ। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে বিকেল ৪টায় এই আয়োজনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সময়ে দেশের অন্য সকল জেলা স্টেডিয়ামে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীরা উপস্থিত থাকবেন। এই ক্রীড়া আয়োজনে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট -৮টি ইভেন্ট অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে ১২-১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষন, বাছাই এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করাই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র মূল উদ্দেশ্য। সারা দেশ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৯ জন কিশোর-কিশোরী অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন করেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৬ জন কিশোর ও ৪৪,১৩৩ জন কিশোরী।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩২৪ জন আবেদনকারী রয়েছে সিলেট জেলায়। এরপরই ৯৩০৫ রয়েছে চট্টগ্রাম ও ৮৮৯৬ জন রয়েছে ঢাকায়। আজ উপজেলা পর্যায়ে দল গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে। আগামীকাল চূড়ান্ত তালিকা হাতে পাওয়া যাবে। আগামী ১৩-২২ মে পর্যন্ত চলবে অঞ্চল ও বিভাগীয় পর্যায়ের লড়াই। পুরো বাংলাদেশকে ১০টি শক্তিশালী অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হলো ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ।
ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনে প্রতিটি পর্যায়ে নক আউট পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। দাবায় আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ীয় সুইস লিগ পদ্ধতিতে খেলা হবে। ব্যক্তিগত ইভেন্ট এ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বাছাই (হিট/নকআউট) এবং ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত হারে ভাতা প্রদান করা হবে। প্রতিটি খেলোয়াড়কে জেলা পর্যায় থেকে জার্সি প্রদান করা হবে। প্রতিযোগিতার প্রতিটি পর্যায়ে তাদের স্বীকৃতিস্বরুপ সনদপত্র প্রদান করা হবে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, প্রতিভা অন্বেষণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে এবং মেডিক্যাল টিম সার্বক্ষণিক থাকবে। তিনি বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
বিকেএসপির আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে স্থানীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়রাই নিজ এলাকায় প্রশিক্ষণ নিতে পারে।
সরকার মনে করছে, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে এবং ভবিষ্যৎ তারকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।