
প্রতিনিধি 6 July 2026 , 11:51:22 প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিকূল আবহাওয়ার দাপটে এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচের প্রথম থেকেই ছিল মেক্সিকানদের আক্রমণের পসরা। পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল পাওয়া ইংল্যান্ড প্রথমার্ধেই ২-১ ব্যবধানে লিড নেয়। নাটকীয় দ্বিতীয়ার্ধে ইংলিশরা আরেক গোল করলেও পরিণত হয় ১০ জনের দলে। সেই সুবিধা পুরোপুরি নিতে পারল না মেক্সিকো। আরেক গোল শোধ করেও তাদের বিদায় নিশ্চিত হলো ৩-২ ব্যবধানে হেরে।
এই ম্যাচ দিয়ে চলতি বিশ্বকাপে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর অধ্যায় শেষ হলো। এর আগে শেষ ষোলোর ম্যাচটি খেলতে দেশটিতে পা রাখার পরই ইংলিশ ফুটবলাররা বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়ে। স্বাগতিক ভক্তরা তাদেরকে দুয়ো দিয়ে অভ্যর্থনা, যাত্রাপথে তাদের সঙ্গে অনেকদূর যাওয়া এবং পরিকল্পনা ছিল টিম হোটেলের বাইরে তাদের কান ফাটানোর। তবে ইকুয়েডর ম্যাচ-পূর্ব পরিস্থিতি ফিরতে দেয়নি মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনী।

মাঠের পারফরম্যান্সে আসরজুড়ে দুর্দান্ত ছিল মেক্সিকো। আজও (সোমবার) ছিল সেই দাপট। ঐতিহাসিক ভেন্যু আজতেকা স্টেডিয়ামে ম্যাচজুড়েই সবদিক থেকে স্বাগতিকরা এগিয়ে ছিল। ৬৭ শতাংশ পজেশন আর ১৯ শট নিয়ে তারা ৪টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। বিপরীতে ৫ শটের ৪টি লক্ষ্যে ছিল ইংলিশদের। আর তাতেই সাফল্য। জুড বেলিংহ্যাম প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করেন, পরে পেনাল্টিতে আরেক গোল আসে হ্যারি কেইনের কাছ থেকে।

মেক্সিকোর পক্ষে দারুণ ফর্মে থাকা হুলিয়ান কুইনোনেস ব্যবধান কমিয়েছিলেন বিরতির আগমুহূর্তে। ৫৪ মিনিটে হেসুস গায়ার্দোকে বাজেভাবে ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসা। ফলে ম্যাচের বড় সময়েই থমাস টুখেলের দল খেলে ১০ জন নিয়ে। পরে কেইনের ফাউলের সুবাদে পেনাল্টি পায় মেক্সিকো। রাউল হিমিনেজ স্পট কিকে স্কোরলাইন ৩-২ করেন।

বিশ্বকাপের প্রথম চারটি ম্যাচে মেক্সিকো কোনো গোল হজম করেনি ঠিকই, কিন্তু বেলিংহ্যামের কোনো জবাবই তাদের কাছে ছিল না। ম্যাচের প্রথমার্ধে মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে তিনি দুটি গোল করেন। এর আগে ৩৫ মিনিট পর্যন্ত স্কোরলাইন ছিল গোলশূন্য সমতায়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া ‘এল ত্রি’ (মেক্সিকো দল) এবার কিছুটা উন্নতি করলেও, এই হার মেক্সিকোর সমর্থকদের জন্য এক তিক্ত অভিজ্ঞতার জন্ম দিয়েছে।
মেক্সিকানদের আশা ছিল ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো তাদের দেশ কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। সেবারও মেক্সিকোই বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল। এরপর থেকে এ পর্যন্ত মোট আটবার মেক্সিকো ‘রাউন্ড অব সিক্সটিন’ বা শেষ ষোলোর ধাপ থেকেই বিদায় নিয়েছে।
১৯৬৬ সালে চালু হওয়া আজতেকা স্টেডিয়ামে এটি মেক্সিকোর তৃতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরাজয়। এর আগে তারা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কোস্টারিকার কাছে (২০০১ সালে) এবং হন্ডুরাসের কাছে (২০১৩ সালে) তারা ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল।