
প্রতিনিধি 5 July 2026 , 11:16:15 প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপে শেষ ৩২-এর ম্যাচে জার্মানিকে যে ছকে বিদায় করেছিল, ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই একই ছকে মাঠে নামে প্যারাগুয়ে। এক ঘন্টারও বেশি সময় তারা আটকে রাখে ফরাসিদের। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের ভুলেই গোল হজম করে প্যারাগুয়ে। লাতিন আমেরিকার দলটির বিপক্ষে ‘দেওয়াল’ টপকে পাওয়া জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল দিদিয়ের দেশমের দল।
শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ফ্রান্স। প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপে।
কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সকে মোকাবিলা করতে হবে মরক্কোকে। আগামী বৃহস্পতিবার রাতে বোস্টন স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। শনিবার রাতে সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে আফ্রিকা মহাদেশের দেশটি।
এদিন শুরু থেকে বল পজিশন ধরে রাখলেও প্যারাগুয়ের ৫-৪-১ ফর্মেশনের সামনে তেমন কিছুই করতে পারছিল না ফ্রান্স। প্রথমার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের আগে কার্যকরী কোনো অ্যাটাকও করতে পারেননি এমবাপে ব্রিগেড। প্রতিপক্ষের বক্সেই এ সময় তারা ঢুকতে পেরেছেন মাত্র ৪বার। এমনকি প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যে প্যারাগুয়ের গোলে একটি শটও নিতে পারেনি ফরাসিরা।
১৯৬৬ সালের পর এ নিয়ে মাত্র তৃতীয়বার ফ্রান্স বিশ্বকাপের ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে কোনো শট নিতে পারেনি। ২০২২ সালে এমনটা দুবার ঘটেছিল। একবার তিউনিসিয়ার বিপক্ষে, যেখানে তাদের প্রথম শটটি আসে ২৫তম মিনিটে এবং আরেকবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে (৬৮তম মিনিটে)।
৩১ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলমুখের সামনে থাকা এমবাপে দারুণ ক্রস পেলেও লাফিয়ে উঠে বলে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি। পরের মিনিটে আদ্রিয়েন রাবিওর সোজা শট যায় পোস্টের অনেকটা উপরে দিয়ে।
খানিক পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ঠুকাঠুকি লেগে যায়। বাম প্রান্ত ধরে উপরে উঠছিলেন এমবাপে,তাঁকে পেছন থেকে টেনে ধরেন প্যারাগুয়ে মিডফিল্ডার আন্দ্রেস কুবাস। এতেই ক্ষীপ্ত হয়ে যান ফরাসি ফরোয়ার্ড। পরে তাতে যোগ অন্য খেলোয়াড়েরা। পরিস্থিতি শান্ত করেন রেফারি।

শেষ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কিছুই ঘটেনি প্রথমার্ধে। ফ্রান্স এদিন এই অর্ধে ২০টি ক্রস করে, যা বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে তাদের করা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্রস। এর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে টোগোর বিপক্ষে ২৭টি ক্রস করেছিল ফরাসিরা। কিন্তু এতগুলো ক্রসের পরও বক্সে প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হতে পারেননি এমবাপে, দেম্বেলেরা।
৫২ মিনিটে পরপর দুটি সুবর্ণ সুযোগ মিস করে ফ্রান্স। ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ীরা সহজেই এক গোলে এগিয়ে যেতে পারত। প্রথমে প্রতি আক্রমণ থেকে মাইনান লম্বা পাস বাড়ান এমবাপের দিকে। প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগের কয়েকজন খেলোয়াড়কে পেছনে ফেলে দ্রুতই এগিয়ে যান ফরাসি অধিনায়ক, কিন্তু গোলকিপারের সামনে ওয়ান অন ওয়ান সিচুয়েশনে বল ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি; প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার কাসেরেস পেছন থেকে দুর্দান্তভাবে বল কর্নারের বিনিময়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন।
এরপর প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়রা এমবাপের বিরুদ্ধে হ্যান্ডবলের আবেদন জানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, ওদিকে দেম্বেলে কর্নার থেকে বল নিয়ে এগিয়ে আসেন, কিন্তু বক্সের কোনা থেকে শটে পাশের জাল কাঁপান তিনি।দুই মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে কোনের দূরপাল্লার শট লাফিয়ে জালের ওপর দিয়ে কর্নার করে দেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল। তবে বক্সে ভুলটা প্যাারাগুয়ে করে বসে ম্যাচের ৬৬ মিনিটে। পেনাল্টি এরিয়ায় বদলি নামা দুয়েকে ফাউল করে বসেন দিয়োগো গোমেজ। প্রথমে রেফারি কর্নপাত না করলেও পরে ভিএআর রিভিউয়ে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সফল স্পটকিকে ৭০ মিনিটে ম্যাচের ডেডলক ভাঙেন এমবাপে। গোলকিপারকে উল্টো দিকে পাঠিয়ে পোস্টের ডান দিকের কোনা দিয়ে নিচু শটে গোল করেন এই ফরোয়ার্ড। আর সেই সঙ্গে এবারের বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির করা সমান সপ্তম গোলের দেখা পেলেন ২৭ বছর বয়সী রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসির ২০ গোলের চেয়ে এখন এক গোল পিছিয়ে এমবাপে (১৯ গোল)।
৮৯ মিনিটে ফ্রান্সের লিড দ্বিগুণ করতে দেননি প্যারাগুয়ের গোলকিপার গিল। পরের মিনিটে প্যারাগুয়ের বদলি মিডফিল্ডার মাউরিসিওর নিচু শট ডান দিকে ঝাপিয়ে রুখে দেন ফ্রান্স গোলকিপার মাইক মাইনান। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে পরপর দুবার এমবাপের গতিময় শট অবিশ্বাস্যভাবে আটকে দেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার গিল। খেলার বাকি সময়ে চেষ্টা করেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল।