
প্রতিনিধি 24 May 2026 , 5:10:32 প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের বিচারিক ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করে মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ হয়েছে একটি শিশু ধর্ষণ মামলার বিচারপ্রক্রিয়া। সশরীর ও ভার্চুয়াল প্রযুক্তির সমন্বয়ে মাত্র তিন দিনে সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করে মেহেরপুরে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডিতকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এসময় আসামি কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
সাজা পাওয়া আসামির নাম শাকিল হোসেন। তিনি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা।
ফাঁসির রায়ের তথ্যটি জানিয়েছেন মেহেরপুর নারী ও শিশু দমন এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিশুটি তার বাবাকে বাড়ির পাশের আবাদি মাঠে খাবার দিতে যাচ্ছিলো। পথে শাকিল হোসেন শিশুটিকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি পাটখেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর শিশুটির চিৎকারে শাকিল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে শিশুটি বাড়ি ফিরে পরিবারকে বিষয়টি জানালে গ্রামবাসী শাকিলকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে শাকিলকে উদ্ধার করে আটক করে। পরে শিশুটির বাবা বাদি হয়ে গাংনী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ শাকিলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়।
পুলিশ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার পর আদালত ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। বিচার চলাকালে ১২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা সশরীর এবং ভার্চুয়ালি ভিডিও কলের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশে জরিমানার তিন লাখ টাকা দণ্ডিত শাকিলের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে পরিশোধ করা হবে।