
প্রতিনিধি 30 April 2026 , 4:51:16 প্রিন্ট সংস্করণ

ঝিনাইদহে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দত্তনগর কৃষি ফার্মকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রস্তাব এবং এর বিকল্প হিসেবে ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দত্তনগর কৃষি ফার্মকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ক্ষেত্রে একাধিক জটিলতা বিদ্যমান থাকলেও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা অধিক বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হতে পারে।
জানা যায়, অতীতে অন্তত তিনবার দত্তনগর কৃষি ফার্মকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রতিবারই তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, দত্তনগর কৃষি ফার্মটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বীজ উৎপাদন কেন্দ্র। এখান থেকে উৎপাদিত বীজ সারা দেশের কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এই ফার্মকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হলে আবাদি জমির একটি বড় অংশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা জাতীয় পর্যায়ে বীজ সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
এছাড়া ফার্মটির ভৌগোলিক অবস্থানও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে একটি বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনকে স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঝিনাইদহ সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধার অভাব বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, দেশের অনেক নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ ইতোমধ্যে শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রত্যাশিত মান অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে জেলা শহর থেকে দূরে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসম্পন্ন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে ব্যর্থ হয়।

এই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদকে পূর্ণাঙ্গ “ঝিনাইদহ বিশ্ববিদ্যালয়” হিসেবে ঘোষণা করা হলে তা অধিক ফলপ্রসূ হবে। কারণ, এই অনুষদে ইতোমধ্যেই আধুনিক অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।
বর্তমানে ক্যাম্পাসটির আয়তন প্রায় ১০.১৭ একর এবং অতিরিক্ত ৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করা আছে। এখানে মাল্টিমিডিয়া সুবিধাসম্পন্ন ক্লাসরুম, আধুনিক ল্যাবরেটরি, ছয় তলা প্রশাসনিক ভবন, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার, ডেইরি, ছাগল ও পোল্ট্রি খামার রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক আবাসিক হল, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসন, মেডিকেল সেন্টার এবং একটি আধুনিক ভেটেরিনারি হাসপাতাল বিদ্যমান।
এছাড়া ক্যাম্পাসে অডিটোরিয়াম, খেলার মাঠ, জিমনেশিয়াম এবং মৎস্য চাষের জন্য আধুনিক পুকুর রয়েছে, যা ভবিষ্যতে ফিশারিজ অনুষদ চালুর ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য কোনো জটিলতা নেই বলে জানা গেছে।
ভৌগোলিক দিক থেকেও ক্যাম্পাসটির অবস্থান সুবিধাজনক। ঝিনাইদহ ছাড়াও কুষ্টিয়া, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ফরিদপুরসহ আশপাশের একাধিক জেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করবে।
উল্লেখ্য, এক সময় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে এই ভেটেরিনারি অনুষদকে আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনা হয়। তবে এখন এটিকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে এটি ঝিনাইদহসহ বৃহত্তর যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের শিক্ষা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং দেশের সুনাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে।