
প্রতিনিধি 23 March 2026 , 12:52:21 প্রিন্ট সংস্করণ

পাবনার সুজানগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বিএনপি সমর্থিত দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় গুলিতে চায়না খাতুন নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পাবনার সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) সাদিক আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত চায়না খাতুন (৪০) ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের সঙ্গে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের বিরোধ চলছিল। রোববার (২২ মার্চ) রাতে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এ নিয়ে রোববার রাত থেকেই দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
সোমবার সকালে ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হচ্ছিলেন। এমন সময় রাজা গ্রুপের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় গুলিবর্ষণ ও বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। গুলিতে চায়না খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ছাড়া গুরুতর আহত ১০ জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মানিকহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, দুপক্ষই বিএনপির সমর্থক। ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া বাজার এলাকা ও পূর্বপাড়া এলাকার দুপক্ষের ছেলেদের মধ্যে গতকাল রাতে ঝামেলা হয় শুনেছি। সেই ঘটনার পর পূর্বপাড়ার লোকদের (রাজা গ্রুপের) পশ্চিমপাড়া বাজারে যেতে দেবে না বলে ঘোষণা দেয় পশ্চিমপাড়া এলাকার (ইসলাম গ্রুপের) লোকজন। আজ সকালে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাহারা বসায় তারা এবং বাজারে যাওয়া পূর্বপাড়ার লোকদের ফিরিয়ে দেয় পশ্চিমপাড়ার লোকজন। পরে পূর্বপাড়ার লোকজন একজোট হয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে পূর্বপাড়ার লোকদের ওপর হামলা চালায়।
এ বিষয়ে ইসলাম প্রামাণিক বলেন, আমার ভাগনে ফরহাদ আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিলেন। এ জন্য রোববার রাতে ভিটবিলা বাজারে তাকে মারধর করে রাজা গ্রুপের লোকজন। আমি খবর পেয়ে তখনই সেখানে গিয়ে তাদের মারামারি না করার অনুরোধ করি। কিন্তু তারা উল্টো আমার ওপরই হামলা করে মারধর করে। খবর পেয়ে আমার গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন- মুরুব্বিদের সঙ্গে বসে, আলোচনা করে এ বিষয়ে সমঝোতা করা হবে।
তিনি বলেন, সকালে আমরা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রাজার নেতৃত্বে তার লাঠিসোঁটা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের গ্রামের লোকজনের ওপরে অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান চায়না খাতুন। আরও ৮-১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত রাফিউল ইসলাম রাজা বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ঘটনার সময় আমি স্পটেও ছিলাম না। আমার এক আত্মীয়ের বিয়ের দাওয়াত খেতে আসছি। এখানে আমার নাম জড়ানো ষড়যন্ত্রমূলক। গুলিবর্ষণ হয়েছে কি না বা গুলিতে চায়না খাতুন মারা গেছে কি না, আমি জানি না। আমি শুনেছি, চায়না খাতুন স্ট্রোক করে মারা গেছে। আপনারা ভালো করে তদন্ত করে দেখেন, আমি সেখানে ছিলাম কি না, আমার নেতৃত্বে হামলা হয়েছে কি না। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। কী বিষয় নিয়ে হামলার ঘটনা, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।