
প্রতিনিধি 20 October 2026 , 1:09:16 প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর রেফারির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান। ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন দলের আরও কয়েকজন। সেই বিতর্কের তিন মাস পর এবার শাস্তি পেলেন মিসরের কোচসহ তিনজন। হোসাম হাসান ও তার যমজ ভাই ইব্রাহিম হাসানকে তিন ম্যাচ করে এবং ফুটবলার মোস্তফা জিকোকে পাঁচ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। হোসাম হাসান জাতীয় দলের প্রধান কোচ এবং তার ভাই ইব্রাহিম দলটির পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। অন্যদিকে জিকো মিসরের ফরোয়ার্ড।
গত ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল মিসর। শেষ দিকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের গোলে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
তবে ম্যাচের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মিসরের কোচ ও ফুটবলাররা। আক্রমণের শুরুতে ফাউলের কারণে জিকোর একটি গোল বাতিল করেছিলেন রেফারি। পরে ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টির আবেদনও নাকচ হয় মিসরের। এসব সিদ্ধান্তের জন্যই দল বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে বলে অভিযোগ করেছিলেন হোসাম হাসান।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রেফারিংয়ের সমালোচনা করে মিসর কোচ দাবি করেছিলেন, তার দলের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। অন্যদিকে রেফারিকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করেছিলেন জিকো। মিসরের কোচিং স্টাফ ও ফুটবলারদের এসব মন্তব্য ঘিরেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ওঠে।
গত আগস্টে তিনজনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাজনিত তদন্ত শুরু করেছিল ফিফা। এবার সেই প্রক্রিয়ার পর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
তবে শাস্তি মেনে নেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির কাছে সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। সেই ব্যাখ্যা পাওয়ার পর আপিল করা হবে কি না, তা বিবেচনা করা হবে।
এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আগামী নভেম্বরে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে মালাউইয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচে হোসাম ও ইব্রাহিম হাসানকে ডাগআউটে পাওয়া যাবে না। আগামী মার্চে অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে ম্যাচেও তাদের অনুপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আগামী জুন পর্যন্ত জাতীয় দলের ম্যাচে খেলতে পারবেন না জিকো।
এদিকে ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে মিসরের অভিযোগ আগেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ফিফার রেফারিং বিভাগের প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনা। তার দাবি, রেফারিরা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তাদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন তিনি।