
প্রতিনিধি 13 June 2026 , 6:31:28 প্রিন্ট সংস্করণ

কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ব্যবধানে শেষ করে ব্রাজিল। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ত্রাতা হয়ে সামনে এগিয়ে আসেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার। কিন্তু তাঁর গোলে লিড নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ বাঁশি বাজার তিন মিনিট আগে প্রতি-আক্রমণ থেকে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। এরপর পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
কাতার বিশ্বকাপের সেই দুঃস্মৃতি ভুলে এবং ২৪ বছরের ট্রফি খরা ঘোঁচাতে সেলেসাওরা মাঠে নামছে এবারের বিশ্বকাপে। নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে তাদের সামনে প্রতিপক্ষ আফ্রিকান জায়ান্ট মরক্কো। যাদেরকে অনেকে আবার ‘আফ্রিকার ব্রাজিল’ বলেও সম্মহিত করেন।
ব্রাজিলের জন্য সবশেষ বিশ্বকাপটা কিছুটা হতাশার হলেও, মরুর বুকে স্মরণীয় অধ্যায় পার করেছে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমবারের মতো দলটি জায়গা করে বিশ্বকাপের শেষ চারে। সেই সুখস্মৃতি নিয়েই আরেকটি বিশ্বকাপে মাঠে নামছে ডার্ক হর্সরা। তবে সেই অভাবনীয় সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দলটি। শনিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের বিগ ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রোববার ভোর ৪টায়।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান ও বর্তমান অবস্থা
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। সর্বোচ্চ ১১৪ ম্যাচ খেলা, সর্বোচ্চ ৭৪ জয় এবং রেকর্ড পাঁচবারের শিরোপাজয়ী তারা। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকে প্রতিটি আসরে অংশ নেওয়া একমাত্র দেশও ব্রাজিল। তবে ২০০২ সালের পর থেকে দলটি আর বিশ্বকাপের ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে পারেনি। তাদের বর্তমান ২৪ বছরের শিরোপা খরা ১৯৭০ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যকার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার সমান, যা শেষ পর্যন্ত আমেরিকান মাটিতেই ঘুঁচেছিল।
এবারের ৪৮ দলের বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে সেলেসাওদের কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। বাছাইপর্বের ১৮ ম্যাচে ৮ জয়, ৪ ড্র ও ৬ হারের পর কনমেবল অঞ্চলের পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম হয়ে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করে তারা।

সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে বলিভিয়ার কাছে ১-০ গোলে হারের পর প্রীতি ম্যাচে জাপান (৩-২) ও ফ্রান্সের (২-১) কাছেও হেরেছে ব্রাজিল। তবে কোচ কার্লো আনচেলত্তির দল তাদের সবশেষ তিন ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া, পানামা ও মিশরকে হারিয়েছে। এই তিন ম্যাচে ব্রাজিল ১১ গোল দেওয়ার বিপরীতে হজম করেছে মোটে চারটি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে থাকা ব্রাজিল রোববার মরক্কোর বিপক্ষে নামছে, যেখানে আফ্রিকান দেশগুলোর বিপক্ষে তাদের অতীতের ৮ ম্যাচের সাতটিতেই জয় রয়েছে। ব্যতিক্রম কেবল ২০২২ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের কাছে ১-০ ব্যবধানের হার।
মরক্কোর সম্ভাবনা ও বর্তমান দল
চার বছর আগে ইতিহাসের প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমি-ফাইনালে ওঠা মরক্কো এবার তাদের সপ্তম বিশ্বকাপ অভিযানে নামছে। টুর্নামেন্টের অন্যতম ডার্ক হর্সরা এবার আরও বড় কিছু করে দেখাতে চায়। মরক্কোর অংশ নেওয়া প্রথম তিনটি বিশ্বকাপের তৃতীয়টি ছিল ১৯৯৪ সালে, আমেরিকায়। যেখানে তারা গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল। তবে মেক্সিকোতে হওয়া ১৯৮৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্যন্ত উঠেছিল দলটি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মরক্কো নিজেদেরকে ফুটবল শক্তিতে পরিণত করেছে। ২০২৩ সালের শুরু থেকে খেলা ৪৫ ম্যাচের মধ্যে ৩৩ জয়, ১০ ড্র এবং মাত্র দুটিতে হেরেছে। এবং বর্তমানে তারা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও জার্মানির উপরে (সপ্তম) অবস্থান করছে।
দলের খবর
ব্রাজিল: ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার ইনজুরি থেকে এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেননি, তাঁকে এই ম্যাচে পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে চোট পাওয়ায় রাইট-ব্যাক ওয়েসলি বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেছেন। রাইট-ব্যাক পজিশনে আনচেলত্তির হাতে দানিলো, রজার ইবানেজ এবং নতুন যোগ দেওয়া এদারসনরা বিকল্প রয়েছেন। এছাড়া অ্যালিসন বেকার, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, ব্রুনো গুইমারেস, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়া একাদশে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। স্ট্রাইকার হিসেবে ম্যাথিউস কুনহা, এন্দ্রিক কিংবা ইগর থিয়াগোর মধ্যে কাকে নেওয়া হবে, তা নিয়ে হয়ত ভাবছেন কোচ।
মরক্কো: কুঁচকির চোটে ডিফেন্ডার নায়েফ আগুয়ের্দ এবং হাঁটুর চোটে পরে উইঙ্গার আবদে এজাজুলি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। তাঁদের বদলি হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছে মারওয়ানে সাদানে ও আমিনকে। নরওয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে নউসাইর মাজরাউই কাঁধে চোট পাওয়ায় তাঁর খেলা নিয়েও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজ এই ম্যাচে দলের মূল ভরসা।
সম্ভাব্য একাদশ:
ব্রাজিল: অ্যালিসন বেকার (গোলকিপার) দানিলো, মারকুইনোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, আলেক্স সান্দ্রো, কাসেমিরো, ব্রুনো গুইমারেস, রাফিনিয়া, লুকাস পাকেতা, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাথিউস কুনহা।
মরক্কো: ইয়াসিন বোনু (গোলকিপার), আশরাফ হাকিমি, ইসা দিওপ, চাদি রিয়াদ, নুসাইর মাজরাউই, আমরাবাত, নেইল আইনাউই, আজেদিনে ওনাহি, ব্রাহিম দিয়াজ, ইসমাইল সাইবারি, বিলাল খান্নাউস।